কুমিল্লা প্রতিনিধি : কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ শপথ নেওয়ার পরপরই এলাকায় চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠা এক ইজারাদারকে ফোনে সতর্ক করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নিউ মার্কেট এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনার দুই মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওতে হাসনাত আবদুল্লাহকে বলতে শোনা যায়, “আপনি ইজারা তুলবেন বাজার থেকে। বাজারের বাইরে চাঁদা তুলতে আসবেন না। দেবিদ্বারে কোনো চাঁদাবাজি চলবে না। আপনি শুধুমাত্র কাঁচা বাজারের ইজারা নিয়েছেন। বাজারের বাইরে যদি আসেন, মানুষ আপনাকে ধরে পিটাইয়া পুলিশের হাতে তুলে দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “চাঁদাবাজদের মানুষ ধরে পিটাবে, বুঝছেন?” ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, “আমাকে শোধন ডিলার পাঠাইছে।” জবাবে হাসনাত বলেন, “শোধন ডিলার আপনাকে পাঠাইছে বলে আপনি চাঁদা তুলবেন? আমি যদি বলি খুন করে আসেন, আপনি খুন করে আসবেন? কাল থেকে যেন আপনাকে না দেখি।”
এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “কাল থেকে যদি চাঁদার জন্য আসে, আপনারা বেঁধে রাখবেন। শাহ আলমকে বেঁধে খবর দেবেন। বাজারের বাইরে যদি আসে, বাইন্ধা পুলিশে দেব।”
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের আগে আওয়ামী লীগের দেবিদ্বার পৌর কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কাশেম চেয়ারম্যান বাজারের ইজারা নিয়েছিলেন। ওই সময় তিনি বাজারের বাইরে দেবিদ্বার-চান্দিনা সড়কের মাথা থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধ দোকান বসিয়ে মাসিক ও দৈনিক চাঁদা আদায় করতেন। এতে যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হলেও তার ভয়ে স্থানীয়রা মুখ খুলতেন না।
সরকার পতনের পর আবুল কাশেম চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দেবিদ্বার পৌর বিএনপির সাবেক সহসভাপতি হাজী মো. শোধন মিয়া (শোধন ডিলার)-সহ কয়েকজন বাজার ইজারা নেন। এরপর তারাও নিউ মার্কেটসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে নিজেদের ইচ্ছেমতো দোকান বসিয়ে এককালীন, মাসিক ও দৈনিক চাঁদা আদায় শুরু করেন। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানের পরও শতাধিক ভ্যানগাড়ির মাধ্যমে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শোধন ডিলার বলেন, “বাজার ডাক আমরা ১৬ জনে নিয়েছি। শাহ আলমকে আমি চাঁদার জন্য পাঠাইনি। দায়-দায়িত্ব খোরশেদের। বাজার ইজারার ডিট বাশারের নামে। আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ মিথ্যা।” তবে বাশারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি, কারণ তার নম্বর বন্ধ ছিল।
দেবিদ্বারে এসি ল্যান্ড ও পৌর প্রশাসক মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, “কাঁচা বাজার ইজারা দেওয়া হয়েছে, ফুটপাত ইজারা দেওয়া হয়নি। উচ্ছেদ অভিযানের পর যারা পুনরায় দখল করে ব্যবসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।”