শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রোজায় বদলায় শরীরের ছন্দ, চোখে পড়ে প্রভাব

লাইফস্টাইল ডেস্ক : রমজান মাসে দৈনন্দিন জীবনের ছন্দে পরিবর্তন আসে— ভোরে সাহরি, সারা দিন রোজা, সন্ধ্যায় ইফতার, রাতে তারাবিহ ও সামাজিক জমায়েত। এই পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরও মানিয়ে নেয়। খাদ্যাভ্যাস, পানিশূন্যতা ও ঘুম নিয়ে আলোচনা হলেও চোখের স্বাস্থ্য প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়।

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, রোজায় পানিশূন্যতা ও ঘুমের পরিবর্তন চোখে সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিকেলের দিকে অনেকেরই চোখে ঝাপসা দেখা, খসখসে ভাব বা চাপ অনুভূত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইফতারের পর পানি পান করলে সমস্যা সেরে যায়।

ঝাপসা দেখার কারণ

মেডকেয়ার আই সেন্টারের চক্ষু চিকিৎসক ডা. নন্দিনী সংকর নারায়ণ জানান, রোজায় চোখের পানি কম তৈরি হওয়ায় টিয়ার ফিল্ম দুর্বল হয়, ফলে চোখ ভারী লাগে বা ঝাপসা দেখা দেয়। ইফতারের পর পানি পান করলে দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক হয়ে যায়।

শর্করার প্রভাব

রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে চোখে সাময়িক ঝাপসা দেখা, আলো কম মনে হওয়া বা কালো দাগ ভাসতে পারে। মস্তিষ্ক ও চোখের সঠিক কাজের জন্য নিয়মিত গ্লুকোজ প্রয়োজন। বিশেষ করে ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে রোজায় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

চোখে ক্লান্তি

কম পানি পান, ঘুমের সময়সূচির পরিবর্তন, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন দেখা ও শুষ্ক পরিবেশ চোখে চাপ বাড়ায়। ফলে বিকেলে চোখে জ্বালা, খসখসে ভাব ও দৃষ্টিশক্তির ওঠানামা দেখা দেয়।

রেটিনা ও শর্করা নিয়ন্ত্রণ

আবুধাবির বিশেষজ্ঞরা জানান, রেটিনা রক্তে শর্করার ওঠানামায় সংবেদনশীল। অতিরিক্ত মিষ্টি দিয়ে ইফতার রক্তনালিতে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই ইফতারে জটিল শর্করা, প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সতর্কতার লক্ষণ

  • হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া
  • চোখের সামনে ভাসমান দাগ
  • পর্দার মতো ছায়া নেমে আসা

কর্নিয়া ও ড্রাই আই

পানিশূন্যতায় কর্নিয়া দ্রুত প্রভাবিত হয়। ড্রাই আই ডিজিজে চোখে জ্বালা, খসখসে ভাব ও ঝাপসা দেখা দেয়। সমাধান হিসেবে ইফতার থেকে সেহরির মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান এবং প্রয়োজনে প্রিজারভেটিভ-ফ্রি কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়।

গ্লকোমা রোগীদের সতর্কতা

গ্লকোমা রোগীদের নিয়মিত ওষুধ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা জানান, চোখের ড্রপ রোজা ভাঙে না। তবে একটি ডোজ বাদ গেলে চোখের ভেতরের চাপ বেড়ে যেতে পারে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

রমজানে সামান্য শুষ্কতা বা ঝাপসা দেখা স্বাভাবিক হলেও দৃষ্টিশক্তি ক্রমশ কমে যাওয়া, হঠাৎ ফ্লোটার দেখা, চোখে পর্দার মতো ছায়া, তীব্র ব্যথা বা আলো সহ্য না হলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

নিজে সুস্থ থাকুন, পরিবারকে সুস্থ রাখুন।