সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১০ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৫ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে আবেদনের ক্ষেত্রে তিনি নিজ সরকারের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সমর্থন পাননি। এ নিয়ে তিনি সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন।

রোববার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মুশফিক ফজল আনসারি এই দাবি করেন।

তিনি জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদে আবেদন করার পর তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন তাকে ‘অগ্রসর না হতে’ (not to proceed) নির্দেশ দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা ‘নোট ভারবাল’ না পাওয়ায় তার আবেদন প্রক্রিয়াটি আর এগোয়নি।

মুশফিক ফজল আনসারি জানান, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হওয়ায় পদটি শূন্য হলে জাতিসংঘের এক বিদেশি সহকর্মী তাকে আবেদনের বিষয়ে উৎসাহ দেন। বিষয়টি তিনি সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তাঁর পরামর্শেই তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

রাষ্ট্রদূতের দাবি, সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন শুরুতে আবেদন করতে মৌখিক সম্মতি দিলেও আবেদন জমা দেওয়ার পর বার্তা পাঠিয়ে তাঁকে ‘অগ্রসর না হতে’ নির্দেশ দেন। জবাবে আবেদন জমা হয়ে গেছে জানালে এরপর থেকে তৌহিদ হোসেন তার ফোন ধরা বন্ধ করে দেন।

ফেসবুক পোস্টে মুশফিক ফজল আনসারি বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার ইস্যুতে দীর্ঘদিন কাজ করার পরও ন্যূনতম সমর্থন না পাওয়ায় তিনি হতাশ হয়েছেন। এ ধরনের পদে সদস্যরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা ছিল, তবে তিনি নিজ দেশের সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন।

তিনি আরও দাবি করেন, বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শেয়ার করলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে বিব্রত করতে না চাওয়ায় তিনি সরাসরি হস্তক্ষেপ চাননি।

রাষ্ট্রদূত জানান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে বলা হয়েছিল– মুশফিক ফজল আনসারির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি। যদিও এ পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না; সদস্যরাষ্ট্র মনোনয়ন দিলে জাতিসংঘ সংক্ষিপ্ত তালিকা (শর্টলিস্ট) করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ দেয়।

ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে পোস্টিং ও জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয়ে তার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল। তবে দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের কারণে এখনই সব তথ্য প্রকাশ করছেন না জানিয়ে তিনি এই বিষয়ে একটি বই লেখার কথা উল্লেখ করেন।