মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৩ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ভিসা নিয়ে সুখবর দিল ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ভিসা কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা।

সোমবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মন্ত্রণালয়ে আসেন ভারতের হাইকমিশনার।

প্রণয় কুমার ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণে নতুন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে ভারত। ভিসা কার্যক্রমও দ্রুত স্বাভাবিক হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনার নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছেন। বর্ডার হাট, বেশ কয়েকটা স্থলবন্দর বন্ধ রয়েছে। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়াতে সামনে সেগুলো চালু হবে।

তবে বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নের প্রকল্পগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন আব্দুল মুক্তাদির।

এরআগে রোববার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে সচিবালয়ে এক বৈঠকে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা কার্যক্রম ভারত পর্যায়ক্রমে স্বাভাবিক করবে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।

সাক্ষাৎকালে মন্ত্রী ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো চালুকরণ ও ভিসা দেওয়ার হার বাড়ানোর জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। জবাবে হাইকমিশনার বলেন, আমরা পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দিচ্ছি। কিন্তু গত দেড় বছরে সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে আমাদের ভিসা সেন্টারগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং ভিসা দেওয়ার হার কম ছিল।

মন্ত্রী এ সময় ভারতীয় ভিসা সেন্টারসহ ভারতীয় স্থাপনাগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।

হাইকমিশনার বলেন, ভারতীয় ভিসার আবেদন এখন অনলাইনে নেওয়া হয়। সেজন্য ওয়েবসাইটটি হ্যাক করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীকে অনুরোধ করেন। মন্ত্রী এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) নির্দেশ দেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের পারস্পরিক সম্পর্ক নয়।

তিনি বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে নবায়ন করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার। দুদেশের পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা নয়, শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের সম্পর্কের ভিত্তি হবে অভিন্ন স্বার্থ।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান। হাইকমিশনার নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। মন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান। হাইকমিশনার এ সময় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা একসঙ্গে পারস্পরিক ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরুদ্ধার করতে চাই।

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় যেটি দুদেশের পারস্পরিক সম্পর্ককে বাধাগ্রস্ত করে সেটি হলো সীমান্ত হত্যা। তিনি সীমান্তে হত্যার সংখ্যা দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য হাইকমিশনারকে অনুরোধ করেন। হাইকমিশনার বলেন, ভারতের প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো অনেক উন্নত মানের। তিনি ভারতের আইটিইসি প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি হারে প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য নির্ধারিত দক্ষতা বৃদ্ধিকরণ প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি হারে ভারতে প্রশিক্ষণার্থী পাঠানো হবে মর্মে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।

বৈঠকে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে, কাউন্সেলর অভিজিৎ সপ্তর্ষি ও প্রথম সচিব অ্যান মেরি জর্জ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খানসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।