মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ
বিগত আওয়ামী লীগের আমলে দিন-রাত স্বপ্ন দেখতাম, স্বপ্নের অজস্র শাখায় প্রশাখায় বিচরণ করতাম এই ভেবে যে, আগামীতে কোন দিন যদি সৎ, যোগ্য, সুশিক্ষিত, সর্বোপরি আপাদমস্তক নির্ভেজাল দেশপ্রেমিক কেউ বা কোন দল ক্ষমতায় আসবে। আমার দেশের সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব পরিমন্ডলে নিজেদের প্রয়োজনীয় একটি অভিজাত ও মর্যাদাবান টেকসই রাষ্ট্রীয় কাঠামো সৃষ্টির লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দীর্ঘ মেয়াদে সকল স্তরের উন্নযন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বাত্মক মনোযোগ প্রদান করবে।
স্বল্প খরচের শ্রম বান্ধব এই বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। শিল্প বিপ্লবের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার এই দেশে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করে ঘরের ঝাড়ু বেলচা থেকে শুরু তরে কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসের সাথে মেয়েদের চুলের ফিতাটাসহ আমাদের প্রয়োজনীয় প্রায় সকল পণ্য চায়না থেকে ডলারের বিনিময়ে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে খাল-বিল নদীনালা বিদৌত এই দেশের উর্বর মাটিতে ফলে না এমন কোন কৃষি পণ্য নেই।
অথচ পরিকল্পিত উদ্যোগের অভাবে এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথ নিরাপত্তা ও কৃষি ক্ষেত্রে কোন ধরণের ব্যাপকহারে বৈপ্লবিক গবেষণা, সময়োপযোগী কৃষি পণ্যের রূপান্তরিত আবিস্কার কিংবা আধুনিক কৃষির যুগোপযোগী প্রয়োজনীয় টেকনোলজিস তৈরির কোন উদ্যোগ নেই। এমন কি আধুনিক কৃষি সরাঞ্জাম তৈরি বা কোন গবেষণার ন্যুনতম পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেই। বাংলাদেশের বাজারে কৃষিকাজের যে-সব সহযোগী মেশিনারি, বীজ, সার, কীটনাশক সহ ছোট-বড় যা কিছু পাওয়া যায় তার প্রায় ৯০% শতাংশ পণ্য চয়না থেকে আমদানিকৃত। এটাও এক বিস্ময়কর ব্যাপার! আমাদের দেশে কীটনাশক ছিঁটানোর একটা স্প্রে মেশিন বানাতে পারে না। বড় আইটেমের নাম তো বাদ-ই দিলাম। আমরা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বাংলাদেশের বিশাল বিশাল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি, সেখানে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বড় বড় কৃষিবিদদের পড়াশোনা করিয়ে, ২শ’ টাকার খাবারের মিল ২০/৩০ টাকায় খাইয়ে সে-সব পাবলিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতি বছর শত শত বড় বড় ডিগ্রী নিয়ে কৃষিবিদ বেরিয়ে আসছেন। মজার বিষয় হলো, একমাত্র বাংলাদেশেই কৃষির উপরে ডিগ্রী নিয়ে বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারক হন, ইউএনও পদে যোগ দেন, এমনকি কৃষি থেকে অনার্স পাশ করে আবার এলএলবি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে বিসিএস-এ জুডিশিয়ারি পরীক্ষা দেয়ার মাধ্যমে কৃষির ভাইগুলো কোর্টে বসে বিচার আচারও করছেন। আবার যাঁরা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করে গবেষণা করার জন্য বিদেশে পিএইচডি ডিগ্রী বা উচ্চতর ডিগ্রী নিতে পাড়ি জমান তাঁরা আর কেউ নিজ দেশের জন্য কৃষি নিয়ে কোন গবেষণা বা আবিষ্কার করেন না, এমনকি ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কৃষিবিদ বন্ধুকে আমোরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় সাক্ষাতে দেশে ফিরবেন কিনা জানতে চাইলে কোন উত্তর না দিয়ে তিনি তাঁর নেবাদায় এক ফার্ম হাউজ দেখাতে নিয়ে গেলেন! প্রায় তিন ঘন্টায় পুরো ফার্ম হাউজ ভিজিট শেষ না করতে পেরে আমি চুপ চাপ তাঁর ফার্মের কিছু আঙ্গুর আর কয়েকটা আনার গাছ থেকে ছিঁড়ে লসএঞ্জেলস এর পথ ধরেছিলাম। অন্য অনেকের সম্পর্কে জানি, তাঁরা বিদেশে বড় বড় এগ্রিকালচার গ্রীনহাউজ গুলোর বেটার উৎপাদনের জন্য গবেষণা করলে অনেক বেশি ডলার ইনকাম করতে পারেন। সহ্য ক্ষমতা রয়েছে আমাদের মতো গরীবদের, নানা ঝক্কি-ঝামেলা, পলিউশন, শব্দ দূষণ, ভেজাল খাদ্যের মহামারি! অথচ এই ভেজাল খাদ্য থেকে বাঁচতে জনগণ এই কৃষিবিদদের পেছনে মোটা অংকের ট্যাক্সের টাকায় ভর্তুকি দিয়ে পড়াশোনা করিয়েছে! বলতে গেলে বিনে টাকাতেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে এখন তাঁরা জনগণের জন্য কোন দায় বোধ করেন না! যাঁরা প্রাইভেটে এখন নিজ সন্তানদের পড়াচ্ছেন তাঁরা ঠিকই টের পাচ্ছেন। অবশ্য এই সমস্যাটা সরকারি উচ্চ, মধ্য, নিন্ম সব শ্রেণির কর্মকর্তাদের মাঝেই আছে। এসব সচিবালয়ে বা ডিসি পর্যায়ে কর্মকর্তাগণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কি সাব্জেক্ট নিয়ে পড়েছেন আর এখন তিনি সচিব বা কর্মকর্তা হয়ে কি বিষয়ে দায়িত্ব পালন করছেন তা’ খোঁজ নিলে ভিমরি খেতে হয়। এটাও না হয় মেনে নিলেন, কিন্তু এসব বড় বড় চেয়ারের মানুষ গুলো যাঁদের ভর্তুকির টাকায় আজকের অবস্থানে বসেছেন তাঁদের, মানে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদেরকে তাঁকে ‘স্যার’ ডাকতে দেরি হলে শাস্তির ব্যবস্থা করেন, বা সেবা আর ওই সেবাগ্রহীতা পান না!
বাংলাদেশের কৃষি গবেষণা, ফল ফসলের উন্নতি বা কোন নতুন ভালো আবিষ্কার করেছেন কিনা জানা নেই। এসব মহাশয় থেকে ১৮ কোটি মানুষ তেমন কোন উল্লেখ যোগ্য সার্ভিস পায় না। মাঝে মাঝে দেশের শ’ পাঁচেক উপজেলায় হঠাৎ করে উপজেলা কৃষি অফিসার দু’/একজন কৃষকের ক্ষেত দেখতে যান, তবে মজার ব্যাপার হলো সেই ক্ষেত দেখতে যাওয়ার আগে স্থানীয় কোন টিভি সাংবাদিককে যে কোনভাবে তাঁর কোন একটি ক্ষেত ভিজিটের টিভি নিউজ কনফার্ম হবে কিনা তা অবশ্যই নিশ্চিত করে নেন।
এখন আসল জায়গায় আসেন, বাংলাদেশের কৃষিবিদদের কেউ নিজের ইচ্ছাতে মন না চাইলে দেশের কৃষির জন্য তেমন কোন অবদান রাখেন না! বছরে অন্য দেশের গবেষণার সূত্র ধরে কিছু একটা করলে তা জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিক সম্মেলন করে সিরিজ আকারো প্রকাশ করতে হয়। অথচ যাদের বীজ, গবেষণার নানা উন্নত জাতের সব্জি, ফল, উন্নত নানা জাতের নানা ফসলের সমাহার সব কিছুই আসছে চায়না থেকে। সার, কীটনাশক, মেশিনারির কথা তো আগেই বললাম!
এইভাবে খুঁজে দেখলে পাবেন, ছোট বাচ্চাটার প্লাস্টিকের খেলনা থেকে শুরু করে মেযেদের চুলের ক্লিপ, চুলের ফিতা বা রিবন, অথবা সাধারণ একটা তালা, ঘরের প্রায় যাবতীয় কিচেন আইটেম, কসমেটিকস থেকে পাতিল মাজুনি, ঘর সাজানোর যাবতীয় জিনিস থেকে এমনকি কাগজের ফুল, প্লাস্টিকের ফুল সহ সব, অন্যদিকে একটু শান্তি পেতে যেখানে আপনাকে ছুটে যেতে হয় সেই চায়নায়। টয়লেটে তো চায়না প্রোডাক্ট বাদ দিলে হাগা-ই পরিস্কার করে বাহিরে আসতে পারবেন না!
আরোকটা অবাক করার ব্যাপার হলো, আমাদের দেশে এখন প্রায় ছোট বড় ৫ হাজারের বেশি ডেইরি ফার্ম আছে। মোট ডেইরি ফার্মের সর্বোচ্চ ৬০% ফার্ম হয়তো সরকারের পরিসংখ্যানে আসে। কারণ যাঁরা রুরাল লেবেলে পরিসংখ্যান করেন, তাঁরা কাছের দু’একটি গ্রাম ভিজিট করেই রিপোর্ট করে দেন। যেমন, এবার ঈদের পরে আমার গ্রামে গিয়ে খামারের খোঁজ-খবর নিলাম। আলাপে জানতে পারলাম, আমার নিজ ইউনিয়নে ডেইরি খামার ও গরু মোটাতাজা করণ ফার্ম রয়েছে কমপক্ষে ছোট/বড় ৬০ টি। কিন্তু উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার রেকর্ডে আমার ইউনিয়নে ডেইরি ফার্মের সংখ্যা আছে জানা গেলো মাত্র ৫/৬ টা। সবগুলো খামার পরিসংখ্যানে না আসায় সমস্যা অনেক। একদিকে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তাঁর কাছাকাছি এলাকায় খামার গুলোর খোঁজ খবর নেন। বাকি ৮ টা ইউনিয়নে থাকা অর্ধশতাধিক খামার কৃষি কর্মকর্তার সেবা চিকিৎসা বা টোটাল দুগ্ধ উথপাদন বা টোটাল মাংস উৎপাদনের রেকর্ডে ভুল ভাবে কালেকশন ও লিপিবদ্ধ করছেন।
এবার আসি আরেকটা দুঃখের কথায়, দেশে বর্তমানে ছোট বড় প্রায় ৫ থেকে সাড়ে ৫ হাজার ডেইরি ও গরু মোটাতাজা করণ ফার্ম রয়েছে। এসব ফার্মের দুধের গরু থেকে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। সেই হিসেবে প্রতি মাসে সারা দেশে কমপক্ষে দেড় কোটি লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এই হিসাব প্রাতিষ্ঠানিক খামারি ছাড়া ব্যক্তিগত ভাবে যাঁরা ২/৪ টা করে পালন করেন সেগুলোর হিসাব আসেনি। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের দেশে মাসে গড়ে দেড় কোটি লিটার দুধ উৎপাদন হলেও দেশে আন্ডার সেভেন এজড শিশু কিশোর আছে ২০ লাখের মতো। প্রতি মাসে দেড় কোটি লিটার দুধ থেকে মাত্র ২০ লাাখ লিটার দুধ কলিজার টুকরো শিশু-কিশোরদের জন্য বাজেট করা যায় না! ম্যাক্সিমাম দুধ চলে যায় কয়েকটা গ্রুপ অব কোম্পানির ভাগে।
শিশু-কিশোরদের কথা কেন বললাম? দেড় কোটি লিটার দুধ নিজেদের উৎপাদন হওয়ার পরও বিভিন্ন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গুলোকে শিশু খাদ্যের অযুহাতে বিশেষ শুল্ক ছাড়ে বিদেশি ডলার ব্যবহার হরে প্রতি মাসে লাখ লাখ টন দুধ পাউডার আমদানির অনুমোতি দিয়ে রেখেছে সরকার। এসব দুধ পাউডারের মান নিয়ে নাই-বা বললাম! শুল্ক ছাড়ের কারণে আমাদের আমদানি খরচ পাশের দেশ ভারতের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে আমাদের দেশের বড় বড় গ্রুপ অব কোম্পানির অনেকেই আমাদের জন্য আমদানি করা দুধ পাউডার আমাদের দেশে পুরোটা বাজারজাত না করে বেশি লাভে পাশের দেশের সেভেন সিস্টার্স-এ রপ্তানি করে দেয়। অথচ এই দুধ পাউডার কিন্তু আমাদের শিশু-কিশোরদের নামে আমদানি করা হয়েছে।
এবার দেশীয় দেড় কোটি লিটারের হিসাবে আসি। আমাদের দেশে উৎপাদিত দেড় কোটি লিটারর অধিক দুধ থেকে ২০/২৫ লাখ লিটার আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের, জন্য বরাদ্দ করলে আমাদের জান বাচ্চা গুলো নিজ দেশের গরুর দুধের হালাল এবং কম দামে মিল্ক ক্যান্ডি খেতে পারতো। কিন্তু নিজ দেশের গরুর দুধ দিয়ে আমাদের জান বাচ্চাদের জন্য মিল্ক ক্যান্ডি তৈরি হয় না বাজারে যে-সব মিল্ক ক্যান্ডি পাওয়া যায় সেগুলোর অধিকাংশ ই হলো ভারত থেকে আমদানিকৃত নিন্ম মানের মিল্ক ক্যান্ডি। এবং হারাম হালালের চিন্তা করলে ভারত চায়না থাইল্যান্ডের ক্যান্ডি বা ক্যাটবেরি চকলেট কিনে দেয়া যায় না! হতভাগা আমরা এই জাতি, আমাদের ছোট্ট আদরের সোনামনিদেরকে নিজ দেশের পিওর হালাল মিল্ক ক্যান্ডি বা ভালো কোন চকোলেটও বানিয়ে দিতে পারে না এই দেশ! দুর্ভাগ্য!
প্রতিটা সেক্টর ধরে ধরে আলোচনা করলে আমার হয়তো আরেক দিন লিখতে হবে। আমাদের দেশের নিজস্ব উৎপাদনের বিষয়ে এবং ভারি শিল্পের প্রোডাক্ট বাদই দিলাম, নিজস্ব ক্ষুদ্র বা মাজারি শিল্পে অতি সহজে পণ্য উৎপাদন করা যায় এমন পণ্যও আমরা বিলাসিতার আহ্লাদে অধিকাংশ চায়না, বাকিটা ভারত, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড থেকে মূল্যবান রিজার্ভের ডলার ব্যবহার করে ঊচ্চ মূল্যে আমদানি করে খাচ্ছি।
আমি ইতিপূর্বে বিশেষ লক্ষ্য নিয়ে আমাদের দেশে টোটাল আমদানি কৃত পণ্য গুলোর একটা তালিকা সংগ্রহ করেছিলাম। সেখান শতাধিক নিত্য পণ্য আমি মার্কিং (চাল ডাল আলু পিয়াাজ রুশন বা মসলা ছাড়া) করেছিলাম, যেই পণ্য গুলো উদ্যোগ নিলে মাত্র তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ নিজেদের দেশেই উৎপাদন করতে পারে। এই বিষয়ে একটু খোঁজ খবর নিয়ে দেখলাম, আমদানিকারক দেশ আমরা এবং রপ্তানি কারক দেশ চায়না ও ভারত দুই দেশে দুইটি বড় সিন্ডিকেট কাজ করে। এরা আমাদের ১৮/২০ কোটি মানুষের পকেটকে তাদের রাজত্ব বা জমিদারি বানিয়ে রেখেছে। সারাদেশে উপজেলা ভিত্তিক ছোট ছোট ক্ষুদ্র শিল্প করে দিলে এবং প্রতিটি জেলা শহরে এসব আমদানি নির্ভর পণ্য গুলোর জন্য একটি করে মাঝারি শিল্প স্থাপন কনে দিলে আগামী দশ বছরের মধ্যে বিশেষ করে চায়না থেকে আমদানি করা পণ্য কমপক্ষে ৩০% আমাদের নিজস্ব উৎপাদনে কাভার হয়ে যাবে। একইভাবে এই শিল্পকারখানা গুলো ক্রমান্বয়ে সংখ্যা বাড়বে এবং আমদানি নির্ভরতা এই প্রক্রিয়া শুরু করা থেকে ১৫ বছরের মধ্যে ৫০% আমদানি বন্ধ করে দেয়া সম্ভব। কেন দেশ টাকে টাটালি ৯০% আমদানি নির্ভর করে রেখেছিল বিগত সরকার গুলে, তা আমার বোধ গম্য নয়।
এখানে আপনাদের আরো একটা কথা বলে রাখা দরকার। সেটা হলো নিত্য ব্যবহার্য সামগ্রীর ও শিশু খাদ্য সহ যে শতাধিক পণ্য উৎপাদন দেশের বৈদেশিক মূদ্রা কমপক্ষে ৩০% বাঁচানো সম্ভব তার জন্য আমার একটা পরিকল্পনা ডিজাইন অনুযায়ী টোটাল বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে মাত্র তিন হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে এই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সারাদেশে ছোট ছোট ইউনিটে ভাগ করে যেহেতু করার হিসাব করেছি, সেহেতু উৎপাদন কষ্ট হিসেবে সাধারণ ও স্বাভাবিক প্রফিট মার্জিনে বাজারজাত করে কনজ্যুমারদের হাতে পৌছানো পর্যন্ত বর্তমানে আমদানি করা পণ্য কনজ্যুমার যে দামে কিনছেন, নিজস্ব উৎপাদিত পণ্য সরাসরি ৫০% কমে কাস্টমারকে দেয়া সম্ভব।
একবার ভাবুন, আমরা জাতি হিসেবে, দেশ হিসেবে, ভোক্তা হিসেবে কতটা ঠকে যাচ্ছি দিনের পর দিন। আমি বর্তমান সরকারকে অনুরোধ করবো, অন্তত দেশের মূল্যবান বৈদেশিক মূদ্রার অপচয় রোধ করতে আমদানি নিয়ন্ত্রণ করুন। যেসব পণ্য আমাদের দেশেই উৎপাদন করা সম্ভব সেগুলো দেশে চাহিদা মতো উৎপাদনের উদ্যোগ নিন। কাস্টমার দেরও কেন ঠকাবেন ভিনদেশ থেকে পণ্য এনে শুল্ক, কর, কনটেইনার ভাড়া, জাহাজ ভাড়া, পোর্ট ভাড়া, লোড-আনলোড ভাড়া সহ অহেতুক দ্বিগুন দামে কিনতে হচ্ছে এসব সহজ উৎপাদন যোগ্য পণ্য।
জানিয়ে রাখি, আমি আমার দেশ পাগল মানুষ, সরকার যদি এই বিষয়ে আমার কোন সার্ভিস প্রয়োজন মনে করেন দেশের জন্য সম্পূর্ণ ফ্রিতে সার্ভিস দেবো ইনশাআল্লাহ। আমাকে কোন কাজে লাগলে দেশের জন্য সব ফ্রি করবো, সারাদেশে করবো, কারো কোন ব্যাক্তি স্বার্থে হলে আমি নেই।
লেখক : মোহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ
চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর
কমফোর্ট গ্রুপ, ঢাকা।