মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

“নারী কোটায় নয়, স্ত্রী কোটায় বিসিবিতে রাশনা ইমাম”

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটি নিয়ে সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) গঠিত ১১ সদস্যের এই কমিটির সভাপতি হয়েছেন তামিম ইকবাল। এতে তিন প্রতিমন্ত্রীর ছেলে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী রাশনা ইমামও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার অভিযোগ করেছেন, রাশনা ইমামকে বিসিবিতে রাখা হয়েছে প্রতিমন্ত্রীর স্ত্রী কোটায়।

তিনি বলেন, “আমি রাশনা ইমামের প্রতি আহ্বান জানাব, এই অপমানটা মেনে নিয়েন না। কারণ, সেখানে আপনাকে ববি হাজ্জাজের স্ত্রী কোটায় রাখা হয়েছে। এটা আপনার জায়গা না। আপনি ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নন।”

তামিম ইকবাল গতকাল কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন করেন। রাশনা ইমাম বোর্ডের নারী বিভাগ, মেডিকেল ও কমপ্লেইন কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন। তিনি পেশায় একজন ব্যারিস্টার। এ প্রসঙ্গে তুষার বলেন, “তিনি অবশ্যই ববি হাজ্জাজের স্ত্রী। কিন্তু এটা তাঁর সামাজিক পরিচয় না। তিনি একজন আইন বিশেষজ্ঞ। অথচ তাঁকে রাখা হয়েছে নারী কোটা দেখানোর জন্য।”

রাশনা ইমামকে বিসিবি থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দিয়ে তুষার বলেন, “এই পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে আপনার মর্যাদাকে তারা ভুলুণ্ঠিত করছে। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি বিষয়টি বুঝবেন।”

এদিকে সংসদ অধিবেশনে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বিসিবিকে ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ড’ বলে মন্তব্য করেন। তাঁর বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে সমর্থন দেন সমমনা সাংসদরা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মুচকি হাসতে দেখা যায়।

হাসনাতের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটি করা হয়েছে। আমরা এখানে কোনো বাপের দোয়া মায়ের দোয়া করি নাই। এত দিন শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহন আছে। আজ দেখলাম বাপের দোয়া কমিটিও আছে।”

বিসিবির অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব বণ্টনে তামিম ইকবাল পেয়েছেন ওয়ার্কিং কমিটি ও ফেসিলিটিজের দায়িত্ব। ফাহিম সিনহা—গেম ডেভেলপমেন্ট ও বিপিএল, রফিকুল ইসলাম বাবু—গ্রাউন্ডস, তানজিল চৌধুরী—এইজ গ্রুপ, সালমান ইস্পাহানী—মার্কেটিং ও ডিসিপ্লিন, রাশনা ইমাম—উইমেন্স উইং, মেডিকেল ও কমপ্লেইন, ইসরাফিল খসরু—ফিন্যান্স ও ওয়েলফেয়ার, সায়েদ ইব্রাহিম আহমেদ—সিকিউরিটি ও টেন্ডার-পরচেজ, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু—টুর্নামেন্ট, মির্জা ইয়াসির—লজিস্টিকস এবং আতহার আলী খান—আম্পায়ার কমিটির দায়িত্ব পেয়েছেন।