মুক্তবাণী ডেস্ক : কৌশলগতভাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মার্কিন সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, তাদের যুদ্ধজাহাজ সফলভাবে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে ইরান এই দাবিকে সম্পূর্ণ ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
শনিবার সেন্টকম এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের দুটি ডেস্ট্রয়ার – ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসন এবং ইউএসএস মাইকেল মারফি – হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আরব সাগরে প্রবেশ করেছে। মার্কিন অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এই অভিযানকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন।
তার দাবি, ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) কর্তৃক পেতে রাখা সামুদ্রিক মাইন পরিষ্কার করাই এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এই অঞ্চলে একটি নতুন ও নিরাপদ নৌপথ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে যা বিশ্ব বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে। কুপারের মতে, এটি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের একটি বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’।
তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স জানিয়েছে, সেন্টকম কমান্ডারের বক্তব্য পুরোপুরি কাল্পনিক। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব এবং যেকোনো জাহাজের চলাচলের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর হাতে।
আইআরজিসি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, কোনো অনুমতি ছাড়াই বিদেশি সামরিক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহারের চেষ্টা করলে তাদের কঠোর ও দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইরান এই সংকীর্ণ জলপথ কার্যত বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে শর্তসাপেক্ষে কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে তারা।
বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। পাশাপাশি সার ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানভিত্তিক দক্ষিণ এশীয় স্ট্র্যাটেজিক স্ট্যাবিলিটি ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মারিয়া সুলতান আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “তেহরানের সক্রিয় অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌবহরের অবাধ চলাচল প্রায় অসম্ভব। যদি সত্যিই মার্কিন জাহাজগুলো সেখানে প্রবেশ করে থাকে, তবে পরিস্থিতি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিতে পারে।”