মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১ বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৫ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এএসআই’র ধমকে চুপসে গেলেন এক সময়ের প্রতাপশালী জে. মামুন খালেদ

আদালত প্রতিবেদক : আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আছেন এক সময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী ব্যক্তি ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক লে. জেনারেল অব. শেখ মামুন খালেদ। আর ঠিক সেই মুহূর্তেই দৃশ্যপট যেন উল্টে যায়।

একজন সাধারণ পুলিশ সদস্য, এএসআই মোশাররফ, হঠাৎ করেই ধমক দিয়ে উঠলেন। কণ্ঠে কোনো দ্বিধা নেই, চোখে কোনো সংকোচ নেই। মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন মামুন খালেদ কিন্তু তার আগেই কঠোর স্বরে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, “আদালতের অনুমতি নিয়েছেন?”

প্রশ্নটি যেন শুধু একটি নিয়মের কথা মনে করিয়ে দেওয়া নয়, বরং সময়ের নির্মম বাস্তবতার প্রতিধ্বনি।
শেখ মামুন খালেদ তাকিয়ে রইলেন পুলিশের দিকে হতবাক হয়ে নীরব, নির্বাক। কোনো জবাব নেই, কোনো প্রতিক্রিয়া নেই।

তার মেয়েরা এই আচরণে লজ্জায় মাথা নিচু করে এজলাসের বাইরে গিয়ে দাঁড়ালেন। তখনো বিচারক এজলাসে উপস্থিত হননি।

কিছুক্ষণ পর বিচারক এজলাসে প্রবেশ করলেন, শুরু হলো আনুষ্ঠানিকতা, শুনানি। তদন্তকারী কর্মকর্তা হত্যার অভিযোগ তুলে রিমান্ড আবেদন করলেন। রাষ্ট্রপক্ষ দৃঢ় কণ্ঠে সেই দাবিকে সমর্থন করল।

বিপরীতে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরলেন। এই পুরো সময়টায় বারবার হাত তুলে কথা বলার সুযোগ চাইছিলেন সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান। কিন্তু বিচারকের দৃষ্টি যেন তার দিকে পৌঁছাচ্ছিল না। বরং তিনি মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন আইনজীবীদের বক্তব্য, মাঝে মাঝে ঠোঁটে ফুটে উঠছিল মৃদু হাসি,এক অদ্ভুত, নীরব প্রতিক্রিয়া।

শেষ পর্যন্ত, রাষ্ট্রপক্ষের রিপ্লাইয়ের পর বিচারক মাত্র এক মিনিটের জন্য কথা বলার সুযোগ দিলেন তাকে।
সে এক মিনিটে তিনি ফিরে যেতে চাইলেন তার অতীতে তার চাকরি জীবন, তার একাডেমিক অর্জন, তার পরিচয়। কিন্তু সেই পরিচয় যেন আর এই কাঠগড়ায় কোনো মূল্য বহন করে না। শুনানি শেষে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করলেন।

এজলাসে দাঁড়িয়ে তখন উপলব্ধি হলো এক গভীর সত্য : আজ যিনি আসামির কাঠগড়ায়, এক সময় তার একটি ফোন কলেই বদলে যেত মানুষের ভাগ্য। কারো জামিন হতো, কেউ আবার বছরের পর বছর কারাগারে কাটাতো। তার পরিবারের সদস্যদের সামনে বড় বড় কর্মকর্তারা শ্রদ্ধায় নত হতো, সমীহ করে চলতো।
আর আজ?

একজন এএসআইয়ের ধমকে তিনি নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। যে পুলিশ সদস্য আজ তাকে শাসাচ্ছেন, হয়তো এক সময় তার সঙ্গে দেখা করার জন্যই মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হতো। ক্ষমতা !! এটা কখনো স্থায়ী নয়, কখনো কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তিও নয়। সময়ই একমাত্র শক্তি, যা ক্ষমতার আসল মালিককে বারবার বদলে দেয়।