শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আগামী হজে বিমানভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমবে: প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, সরকার হজের খরচ কমানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। বিমানভাড়া সর্বনিম্ন যতটুকু না নিলেই নয় শুধু সেটুকুই নেওয়া হবে। আগামী বছর বিমানভাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার টাকা কমানো সম্ভব হবে।

মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) দেশের অন্যতম বেসরকারি লিড এজেন্সি আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের উদ্যোগে এবং সৌদির রাওয়াফ মিনা এজেন্সির সহযোগিতায় রাজধানীর একটি হোটেলে হজ যাত্রীদের মধ্যে নুসুক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন।

রাশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, হজ ব্যবস্থাপনা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। এজন্য প্রধানমন্ত্রী সোমবার হজ ব্যবস্থাপনা কমিটির সঙ্গে আড়াই ঘণ্টা বৈঠক করে বিভিন্ন নির্দেশনা দিয়েছেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে হজ এজেন্সিগুলো যদি হজ যাত্রীদের সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একইভাবে বিমান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও ৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তাদের সেবায়। তাদের কেউ যদি সঠিকভাবে সেবা না দেয় তাহলে তাদের চাকরিচ্যুত করা হবে।

তিনি বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এই প্রথমবারের মতো দেশে বসেই হজ যাত্রীরা নসুক কার্ড হাতে পেয়ে যাচ্ছেন। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আগামীতে হজ ব্যবস্থাপনা যাতে আরো সুন্দর ও আধুনিকভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সংসদ সদস্য শামীম কায়সার বলেন, বর্তমান সরকার হজের প্রস্তুতির জন্য খুবই কম সময় পেয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিময় নেতৃত্বে আমরা এবার একটি সুশৃঙ্খল হজ উপহার দিতে পারবো বলে আশা করছি। সৌদিতে যেখানেই লাল-সবুজের হজ মিশনের অফিস থাকবে সেখান থেকে হজ যাত্রীরা সেবা নিতে পারবেন। নুসুক কার্ড খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিচয়। যেটা হারিয়ে গেলে হজ যাত্রীরা বিপদে পড়েন। এটি দেশ থেকে আগেই দিয়ে দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে।

হাব মহাসচিব ফরিদ আহমদ মজুমদার বলেন, নুসুক কার্ডের গুরুত্ব অত্যধিক। নুসুক কার্ড না থাকলে হারাম শরীফে প্রবেশ করা যায় না। এমনকি শ্রমিকদের সঙ্গে যে আচরণ করা হয় সে আচরণের শিকার হন হজ যাত্রীরা। তারা আটকও হয়ে যেতে পারেন। এজন্য এবারই প্রথম সরকার দেশে থেকেই নুসুক কার্ড বিতরণের যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই প্রশংসাযোগ্য। তবে এ কার্ড বিতরণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। কার্ড আগেই দিয়ে দিলে হজযাত্রীরা দেশে রেখে চলে যেতে পারে বা হারিয়ে ফেলতে পারে। তখন আর দ্বিতীয় কার্ড করা যাবে না। এজন্য হজ যাত্রীরা যাওয়ার আগে বিমানে এ কার্ড বিতরণের পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে লিড এজেন্সি আমিন ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের মাধ্যমে হজে যাওয়া ১৪টি এজেন্সির হজ যাত্রীদের মধ্যে নুসুক কার্ড বিতরণ করা হয়। এর মাধ্যমে এই প্রথমবারের মতো দেশে থেকেই নুসুক কার্ড হাতে পেয়ে যাচ্ছেন হজ যাত্রীরা। এর মাধ্যমে তাদের ভোগান্তি অনেক কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।