নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী বলেছেন, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা। তিনি মনে করেন, কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে ইন্টারনেটকে সবার নাগালের মধ্যে আনতে হবে এবং এর দাম জলের মতো সস্তা করতে হবে।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গত তিন দশকে দেশের টেলিকম খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে মানুষের প্রধান চাহিদা ছিল ভয়েস কানেক্টিভিটি, যা মোবাইল প্রযুক্তির বিস্তারের মাধ্যমে পূরণ হয়। পরে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারণা সামনে আসায় প্রায় সবাই যোগাযোগের আওতায় এসেছে। বর্তমানে ইন্টারনেট কেবল সংযোগ নয়, বরং ডেটা এখন ‘নতুন জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করছে। এর ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল সেবার বিশাল ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সংযোগ প্রদান যথেষ্ট নয়; সেই সংযোগ হতে হবে উচ্চগতির, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিংসহ সব খাতেই মানসম্মত ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের কোনো বিকল্প নেই।
ইন্টারনেটের দাম প্রসঙ্গে এমদাদ উল বারী বলেন, দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেট আরও সাশ্রয়ী করতে হবে। যদিও আইএসপিগুলো দীর্ঘদিন ধরে মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে, তবু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য দাম আরও কমানো জরুরি।
তিনি টেলিকম খাতকে ‘এনাবলিং সেক্টর’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এটি অন্যান্য সব খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই বিনিয়োগকারীদের উচিত গ্রাহকের কাছ থেকে শুধু লাভ আদায়ের পরিবর্তে এমন সেবা দেওয়া, যা মানুষের জীবনমান উন্নত করে এবং আয়ের সুযোগ বাড়ায়।
গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, কৃষি, বাজারব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দিতে হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। ব্রডব্যান্ড বিস্তারে আইএসপিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
লাইসেন্সিং নীতিমালা সংস্কারের বিষয়েও তিনি আভাস দেন। জানান, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে, যা বাস্তবায়িত হলে বাজার আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো ভাগাভাগি বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীও যদি উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন করতে পারে, তবে সেটিই হবে প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিফলন। এজন্য সরকার, উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।