নিজস্ব প্রতিবেদক : ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেছেন, দেশে ইন্টারনেট সেবার বিস্তারে বেসরকারি খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য হলেও নীতিগত সীমাবদ্ধতা ও কাঠামোগত সমস্যার কারণে এই খাতের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
সোমবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত তিনদিনব্যাপী ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আমিনুল হাকিম জানান, বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ পরিবার ব্রডব্যান্ড সংযোগের আওতায় এসেছে। বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করে আরও ১ কোটি ৬০ থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ পরিবারকে দ্রুত সংযুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু ‘একটিভ শেয়ারিং’ নীতিমালা না থাকায় বিপুল পরিমাণ নেটওয়ার্ক অব্যবহৃত পড়ে আছে। একই এলাকায় একাধিক আইএসপি আলাদা অবকাঠামো তৈরি করায় বিনিয়োগ বারবার হচ্ছে, অথচ প্রতিটি নেটওয়ার্কের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সক্ষমতা ব্যবহার হচ্ছে না।
তিনি বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে আইএসপি খাতে। কিন্তু এর মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে বিনিয়োগের যথাযথ সুফল মিলছে না। সরকারি হিসাবে ব্রডব্যান্ড ব্যবহারকারীর হার ৮ থেকে ১০ শতাংশ হলেও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে তা ১৫ থেকে ১৬ শতাংশ ধরা হয়েছে। তবে ডিভাইস পেনিট্রেশন কম থাকাও একটি বড় বাধা।
সেবার মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গ্রাহকের ব্যবহৃত ডিভাইসও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নিম্নমানের বা সিঙ্গেল ব্যান্ড রাউটার ব্যবহারের কারণে কাঙ্ক্ষিত গতি পাওয়া যায় না। তাই উন্নতমানের ডিভাইস ব্যবহারে গুরুত্ব দিতে হবে। বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৫০০ আইএসপি লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা যথেষ্ট। নতুন লাইসেন্স না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
আইএসপিএবি সভাপতি আরও বলেন, আইএসপি খাতের বাজার আকার মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ কোটি টাকা, যেখানে মোবাইল অপারেটরদের বাজার হাজার হাজার কোটি টাকার। তাই একইভাবে বিনিয়োগ প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি টেলিকম নীতিমালা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান এবং আইএসপি খাতকে ‘ফিক্সড টেলিফোন সার্ভিস প্রোভাইডার’ হিসেবে উল্লেখ না করে ‘আইএসপি’ নামেই রাখার দাবি করেন। পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল শহর ও বস্তি এলাকাসহ সর্বত্র ব্রডব্যান্ড বিস্তারে ব্যবহার করার প্রস্তাব দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান, বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।