বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বৈরী আবহাওয়ায় আধাপাকা ধান কাটছেন নওগাঁর চাষীরা

মুক্তবাণী রিপোর্ট : নওগাঁ জেলায় বৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে ধানের মাঠে দেখা দিয়েছে জটিল পরিস্থিতি। সময়ের আগেই ধান কাটতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন জেলার চাষীরা।

জেলা সদর, মান্দা, নিয়ামতপুর ও মহাদেবপুর উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বৃষ্টি ও ঝড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ ধানগাছ মাটিতে পড়ে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা।

অনেক কৃষক শ্রমিক না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়েও ধান কাটছেন।
নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর এলাকার চাষী মোকছেদ বলেন, মাঠের অধিকাংশ ধান এখনো ঘরে তোলার সময় হয়নি।

তবে গত দুই দিনের ঝড়ে ধানগাছ মাটিতে পড়ে গেছে। এগুলো ধান যদি পানিতে থাকে তাহলে নষ্ট হয়ে যাবে।

তাই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় পাকার আগেই বাধ্য হয়ে ধান কাটছেন তারা।
তিনি আরও জানান, এখনো নওগাঁর আকাশ পরিষ্কার হয়নি। বড় ধরনের ঝড়ের আশঙ্কা করছেন কৃষকেরা। বিশেষ করে যাদের ধান বিলের মাঠের মাঝখানে রয়েছে, তাদের চিন্তা বেশি। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেলে সেই ধান ঘরে তোলা অনেক কষ্টকর হয়ে যায়। শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না, কাটতে গেলে দ্বিগুণ খরচ লাগে। সবকিছু বিবেচনা করে অনেক কৃষক আগেভাগেই ধান কাটছেন।

মহাদেবপুর উপজেলার নওহাটা এলাকার কৃষক আব্দুল করিম জানান, একদিকে বৃষ্টির পানিতে ধানগাছ পড়ে গেছে, অন্যদিকে শ্রমিক সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বাড়তি মজুরি গুনতে হচ্ছে। যাদের ধানগাছ এখনো দাঁড়িয়ে আছে, তাদের থেকে বিঘা প্রতি চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। আর যাদের ধান পানিতে পড়ে গেছে, তাদের থেকে ছয় হাজার থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়েই চাষীরা এসব ধান কাটছেন।

তিনি আরও জানান, পড়ে যাওয়া ধান এখনো পুরোপুরি পাকেনি, ফলে অনেক ধান আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। উপায় না পেয়ে এভাবেই কাটতে হচ্ছে। এরপরও ধানের বাজারদর নেই। বেপারীরা এসব ধান নিতে চাইছে না। কাঁচা অবস্থায় মণপ্রতি সাত হাজার টাকা দাম বলা হচ্ছে। এই দামে ধান বিক্রি করলে কৃষকের ব্যাপক লোকসান হবে। পাশাপাশি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকায় রোদ না থাকায় ধান শুকানোও সম্ভব হচ্ছে না। ফলে কাঁচা ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোমায়রা মন্ডল জানান, ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ ধান শক্ত দানা থেকে পাকা পর্যায়ে পৌঁছেছে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কাটার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিটি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কৃষকের পাশে থেকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য। ইতোমধ্যে জেলায় ধান কাটা শুরু হয়েছে এবং এখন পর্যন্ত ৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এমন আবহাওয়ায় ফসলের তেমন বড় ধরনের ক্ষতি হবে না। চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে।