নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম পে-স্কেল চালুর প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী ১ জুলাই থেকেই নতুন এই বেতন কাঠামো কার্যকর হতে পারে বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
বেতন কমিশনের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য পুনর্গঠিত কমিটি ধাপে ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রস্তাব দিয়েছে। সেই প্রস্তাবের ভিত্তিতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমান বাজার পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উচ্চ মুদ্রাস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্বিন্যাসের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি কোষাগারের ওপর চাপ কমাতে একবারে পুরো বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি করা হবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপে আগামী জুলাই থেকে মূল বেতন (বেসিক) বাড়ানো হবে। পরবর্তী ধাপগুলোতে চিকিৎসা ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।
সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর দীর্ঘ ১১ বছর ধরে নতুন কোনো বেতন কাঠামো চালু হয়নি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকার নবম পে-স্কেল প্রণয়নে একটি বিশেষ কমিশন গঠন করে। পরবর্তীতে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর গত ২১ এপ্রিল তা পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি পুনর্গঠন করা হয়।
প্রস্তাবিত নতুন কাঠামোয় বেতনে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারী সব মিলিয়ে প্রায় ১৬ হাজার ৯৫০ টাকা বেতন পান, যার মধ্যে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা। নতুন প্রস্তাবে তার মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। এতে ভাতাসহ মোট বেতন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা, যা বর্তমানের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।
তবে এই পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের উচ্চপর্যায়ের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন। অর্থ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হলে বর্তমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও আর্থিক চাপ মোকাবিলায় সরকারি চাকরিজীবীরা বড় ধরনের স্বস্তি পাবেন। একই সঙ্গে আসন্ন বাজেটে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।