স্পোর্টস ডেস্ক : পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে একদিকে যেমন ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি হয়ে ছিলেন মুশফিকুর রহিম, অন্যদিকে বল হাতে দারুণ নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশের মাঝের সারিকে ভেঙে দেন মোহাম্মদ আব্বাস। তার বোলিং তাণ্ডবে প্রথম ও দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই বাকি ৬ উইকেটের সবকয়টি হারায় স্বাগতিকরা।
দিনের শুরুতে মুশফিককে সঙ্গ দিয়ে ইতিবাচক ব্যাটিং করছিলেন লিটন দাস। ৯১তম ওভারে শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে লিটনের বাউন্ডারিতে ১০৫ বলে পূর্ণ হয় তাদের পঞ্চাশ রানের জুটি।
তখন লিটনের ব্যাটেই ছিল বেশি সাবলীলতা।
এর কিছুক্ষণ পরই অবশ্য জীবন পান লিটন।
৯৫তম ওভারে আব্বাসের অফ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে স্লিপে ক্যাচ উঠলেও সেটি তালুবন্দি করতে পারেননি আজান আওয়াইজ। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি বাংলাদেশের উইকেটকিপার ব্যাটার।
৯৭তম ওভারে আবারও আব্বাসের ডেলিভারিতে ভুল করেন লিটন। টাইমিং ঠিক না হওয়ায় বদলি ফিল্ডার আমাদ বাটের হাতে ধরা পড়েন তিনি। ৬৭ বলে ৩৩ রান করে ফেরার আগে মুশফিকের সঙ্গে ৬২ রানের জুটি গড়েন লিটন।
এরপর দ্রুত রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন মেহেদী মিরাজ। ১০১তম ওভারে আব্বাসকে দারুণ এক ছক্কা মারেন তিনি। তবে পরের বলেই অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ক্যাচ দেন মিরাজ। ১২ বলে ১০ রান করেই থামে তার ইনিংস।
মিরাজের বিদায়ের পর ব্যাট হাতে পাঠানো হয় তাইজুল ইসলামকে। পেসার ইবাদত হোসেনের আগে তাকে নামানোর সিদ্ধান্তে কিছুটা চমক ছিল। তবে শুরুতে আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিল বাঁহাতি এই স্পিনারকে। হাসান আলির এক ওভারে টানা দুই চার মেরে দ্রুত রানও তোলেন তিনি।
কিন্তু ১০৭তম ওভারে আবারও সাফল্য পান আব্বাস। এবার বল জমা পড়ে উইকেটকিপার মোহাম্মদ রিজওয়ানের গ্লাভসে। ২৩ বলে ১৭ রান করে ফেরেন তাইজুল। তার বিদায়ে ৭ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
এদিকে নিজের অর্ধশতকও পূর্ণ করার পর মুশফিক আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠেন। ১১৪ বলে ফিফটি স্পর্শ করা এই অভিজ্ঞ ব্যাটার এরপর ইনিংস বড় করার চেষ্টা করেন। লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৭ উইকেটে ৩৮০ রান। ১৭৬ বলে ৭১ রানে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। অন্য প্রান্তে ছিলেন ইবাদত হোসেন।
তখনও আশা ছিল মুশফিককে ঘিরে। কিন্তু বিরতির পর ১১০তম ওভারেই বড় ধাক্কা দেয় পাকিস্তান। শাহিন শাহ আফ্রিদির অফ স্টাম্পের বাইরের বল খেলতে গিয়ে ভুল করেন বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ব্যাটার। ১৭৯ বল মোকাবিলা করে আট চারে ৭১ রানেই থামতে হয় মুশফিককে।
মুশফিক ফেরার পর তাসকিন আহমেদের সঙ্গে ক্রিজে আসেন ইবাদত হোসেন। তবে লাঞ্চের পর দ্বিতীয় ওভারেই আবারও আঘাত হানেন আব্বাস। উইকেটের পেছনে ইবাদতের সহজ ক্যাচ নেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ১০ বল খেলেও রান করতে পারেননি ইবাদত। এই উইকেটের মাধ্যমে ইনিংসে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন আব্বাস।
শেষ উইকেট জুটি বাংলাদেশকে ৪০০ রান পার করায়। তাসকিন মাঠে নেমেই ঝলক দেখাতে থাকেন। ১৯ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। যেখানে ছিল ৩টি চার ও একটি ছক্কা। যদিও শাহিনের হাতে উইকেট খুইয়ে ফিরতে হয় তাকে। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪১৩ রানে।