সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৩ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

প্যারোলে মুক্তি পেলেন থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা নির্ধারিত সময়ের আগেই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন। সোমবার তিনি ব্যাংককের কারাগার থেকে বের হন। ৭৬ বছর বয়সী এই টেলিকম বিলিয়নেয়ার গত সেপ্টেম্বর থেকে দুর্নীতির মামলায় এক বছরের সাজা ভোগ করছিলেন। তিনি প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন।

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার প্যারোল আগামী ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। এই সময়ে তাকে বাধ্যতামূলকভাবে একটি ইলেকট্রনিক মনিটরিং (ইএম) ব্রেসলেট পরতে হবে। দেশটির কারা বিভাগের (ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনস) নিয়ম অনুযায়ী সাধারণ প্যারোলে মুক্তি পাওয়া ৮৫৯ জন বন্দির একজন তিনি।

নিয়ম অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির তিন দিনের মধ্যে তাকে ব্যাংকক প্রবেশন অফিস-১-এ হাজির হতে হবে।
তার বাসভবন ব্যাংককের ব্যাং ফ্লাট জেলার বান চান সং লা এলাকায়, যা ওই দপ্তরের আওতাধীন। প্যারোল চলাকালে থাকসিনকে প্রতি মাসে একবার প্রবেশন অফিসে হাজিরা দিতে হবে।

কারাগারের বাইরে এএফপির সাংবাদিক জানান, মুক্তির পর থাকসিন তার পরিবারের সদস্যদের জড়িয়ে ধরেন। সেখানে লাল শার্ট পরা কয়েক শ সমর্থক জড়ো হয়ে ‘আমরা থাকসিনকে ভালোবাসি’ বলে স্লোগান দেন।
সমর্থকদের একজন জান্থানা চাইদেজ বলেন, তিনি মনে করেন না থাকসিন রাজনীতি ছাড়বেন। তার মতে, থাকসিন হয়তো কিছুদিন দূরে থাকবেন, কিন্তু পুরোপুরি সরে যাবেন না।

থাকসিন গাড়িতে ওঠার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেননি, তবে সমর্থকদের দিকে হাসিমুখে হাত নেড়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে থাকসিনের রাজনৈতিক শক্তি থাইল্যান্ডের সামরিকপন্থী ও রাজতন্ত্রপন্থী গোষ্ঠীর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হয়। তার দল ফেউ থাই এবং এর আগের সংস্করণগুলো এই শতাব্দীতে দেশের সবচেয়ে সফল রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি।
এই পরিবার থেকে চারজন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন এবং গ্রামীণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে তাদের।

তবে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ফেউ থাই দল খারাপ ফল করে তৃতীয় স্থানে নেমে আসে, যা থাকসিন পরিবারের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবুও বর্তমানে ক্ষমতাসীন জোটে তাদের অংশগ্রহণ ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ফেরার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, থাকসিনের মুক্তি তার সমর্থকদের মধ্যে ফেউ থাইকে স্বল্প মেয়াদে শক্তিশালী করবে, তবে একই সঙ্গে রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো আরো সক্রিয় হয়ে তার পরবর্তী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নজর রাখবে।

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা এখন প্যারোলে (শর্তসাপেক্ষ মুক্তি) রয়েছেন। দেশটির কারা বিভাগ গত মাসে তার আগাম মুক্তির ঘোষণা দেয়। এতে বলা হয়, তার বয়স বেশি হওয়া এবং সাজা ভোগের বাকি সময় এক বছরেরও কম থাকায় তাকে আগে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।

থাকসিনকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় গত বছর। তখন সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছিলেন, তিনি ২০২৩ সালের সাজা কারাগারে না থেকে হাসপাতালের একটি প্রাইভেট কক্ষে ভোগ করেছেন, যা নিয়ম অনুযায়ী সঠিক ছিল না। তিনি ২০০১ সালে প্রথম এবং ২০০৫ সালে দ্বিতীয়বার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তবে দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা হারান এবং এরপর নির্বাসনে চলে যান।

২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফিরে আসার পর তাকে দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে তিনি সরাসরি কারাগারে না গিয়ে অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে প্রাইভেট কক্ষে ছিলেন। পরে রাজকীয় ক্ষমার মাধ্যমে তার সাজা কমিয়ে এক বছর করা হয় এবং প্রবীণ বন্দিদের আগাম মুক্তি কর্মসূচির আওতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

থাইল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার দেশে ফেরা এবং হাসপাতালে স্থানান্তরের সময়টি তখন নতুন সরকার গঠন করছিল ফেউ থাই দল। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে জনমনে ‘পর্দার আড়ালে সমঝোতা’ এবং বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেপ্টেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, থাকসিন কোনো গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন না। তাই হাসপাতালে কাটানো সময়কে কারাভোগ হিসেবে গণ্য করা যাবে না। এর ফলে তাকে এক বছরের সাজা ভোগ করতে কারাগারে পাঠানো হয়।

তিনি ছিলেন ৮৫০ জনেরও বেশি বন্দির একজন, যারা আগাম মুক্তির অনুমোদন পেয়েছিলেন। তার মেয়ে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা বৃহস্পতিবার কারাগারে থাকসিনের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের বলেন, তারা রাজনীতি নিয়ে কোনো কথা বলেননি, শুধু পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।