শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৭ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কুমিল্লার পশুর হাটে নতুন আকর্ষণ রাজস্থানি উট ‘সুলতান’

কুমিল্লা প্রতিনিধি : পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কুমিল্লার পশুর হাটগুলোতে শুরু হয়েছে কোরবানির পশু কেনাবেচার প্রস্তুতি। প্রতি বছরের মতো এবারও গরু, মহিষ ও ছাগলের পাশাপাশি দেখা মিলছে ভিন্নধর্মী কিছু পশুর। তবে, সবকিছুকে ছাপিয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকার একটি অ্যাগ্রো ফার্মে এবার নতুন আকর্ষণ হিসেবে যোগ হয়েছে বিশাল আকৃতির একটি উট। যার নাম রাখা হয়েছে সুলতান।

প্রায় দুই মাস আগে ভারতের রাজস্থান থেকে আনা এই উটটি এরই মধ্যেই কুমিল্লাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্যতিক্রমী এই প্রাণীকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে কৌতূহল ও উৎসাহ। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ছুটে আসছেন এক নজর সুলতনকে দেখতে। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে উটটিকে ঘিরে দেখা যাচ্ছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। কেউ ছবি তুলছেন, কেউ ভিডিও করছেন, আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এসে উটটিকে কাছ থেকে দেখছেন।

খামার সূত্রে জানা যায়, সুলতান নামের এই উটটির উচ্চতা ও দৈহিক গঠন বেশ বড় হওয়ায় এটি সহজেই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। কুমিল্লা অঞ্চলে উট খুব একটা দেখা না যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহও কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, জীবনে প্রথমবারের মতো তারা এত কাছ থেকে উট দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

উটটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা শ্রমিকরা জানান, উট পালন তুলনামূলকভাবে সহজ। তারা বলেন, উট সাধারণত গরুর মতোই খাবার খায়। খড়, ঘাস, ভুসি ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্য গ্রহণ করে। এছাড়া গরুর তুলনায় উটের রোগবালাই কম হয় এবং পরিচর্যাতেও তেমন ঝামেলা নেই।

খামারি জুয়েল আহমেদ জানান, পশু খামারে ভিন্নতা আনতেই তিনি রাজস্থান থেকে সুলতানকে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, সবসময় নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। মানুষ যাতে ভিন্ন কিছু দেখতে পারে, সেই চিন্তা থেকেই উটটি আনা হয়েছে। কুমিল্লার মানুষ উটকে এত ভালোভাবে গ্রহণ করবে, তা আমি কল্পনাও করিনি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ উটটি দেখতে আসছেন। ভবিষ্যতে দেশে বাণিজ্যিকভাবে উট পালন জনপ্রিয় হতে পারে বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে উটের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশেও ধীরে ধীরে মানুষ উট পালন ও কোরবানির প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। সঠিক পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ পেলে এটি নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কুমিল্লার পশুর হাটে এর আগে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন খুব কমই দেখা গেছে। ফলে সুলতান এখন এলাকার মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেকে এটিকে কুমিল্লার এবারের পশুর হাটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বলেও মন্তব্য করছেন।

কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যখন পুরো জেলার খামারগুলোতে ব্যস্ততা বেড়েছে, ঠিক তখনই সুলতান উট যেন যোগ করেছে ভিন্ন এক উৎসবের আমেজ। কুমিল্লা সদর দক্ষিণের লক্ষ্মীপুর এলাকার এই খামার থেকে এবারের পশুর হাটে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে এই সুলতান উট। এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।