নিজস্ব প্রতিবেদক : সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিতে সরকারকে ২০ মে পর্যন্ত আলটিমেটাম দিয়েছে চাকরি প্রত্যাশী সাধারণ শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আগামী ২১ মে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাক্ষাৎ চেয়ে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রোববার (১৭ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারীরা বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি, দীর্ঘ সেশনজট, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত কারণে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করতে পারেননি। ফলে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা অতিক্রম করায় তারা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
তারা বলেন, ৩২ পেরিয়ে যাওয়া মানেই অযোগ্য হয়ে যাওয়া নয়। যে বয়সে একজন মানুষ সবচেয়ে বেশি পরিপক্ব ও অভিজ্ঞ হন, সেই সময়েই তাকে বলা হচ্ছে- ‘তোমার আর সুযোগ নেই।’ আমরা কোনো দয়া চাই না, শুধু নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ চাই।
আন্দোলনকারীরা আরও বলেন, চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবিতে গত ১২ বছর ধরে রাজপথে আন্দোলন চলছে। তারা দাবি করেন, বিএনপির ৩১ দফা ইশতেহারের ২৩তম দফায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারীর সঙ্গে একাধিক বৈঠকে বয়সসীমা বৃদ্ধির বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
তবে এতসব আশ্বাস, সুপারিশ ও ইতিবাচক অবস্থানের পরও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। অতীতেও একই ধরনের আশ্বাস দিয়ে দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবার আর শুধু আশ্বাসে বিশ্বাসী নন বলেও জানান আন্দোলনকারীরা। তাদের ভাষ্য, এই আন্দোলন শুধু চাকরির জন্য নয়, এটি সম্মান, বেঁচে থাকা এবং ভবিষ্যৎ ফিরে পাওয়ার লড়াই।