সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৩০ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

কঙ্গোতে ইবোলায় ৮০ জনের মৃত্যু, বৈশ্বিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা ডব্লিউএইচওর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্য আফ্রিকার দেশ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক (ডি আর) কঙ্গো এবং উগান্ডায় প্রাণঘাতী রোগ ইবোলার প্রাদুর্ভাবকে আমলে নিয়ে আন্তর্জাতিক জরুরি অবস্থা জারি করেছে জাতিসংঘের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত অঙ্গসংগঠন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। কঙ্গোতে এই রোগটির সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবে গত কয়েক দিনে ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত রোববার ডব্লিউএইচও’র পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইবোলার প্রাদুর্ভাবে গত এক মাসে ডি আর কঙ্গোতে ইবোলায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৮০ জনের। এছাড়া ইবোলার উপসর্গ নিয়ে দেশটির বিভিন্ন হাসপাতালে বর্তমানে ভর্তি আছেন ২৪৬ জন রোগী; তাদের মধ্যে আট জন নিশ্চিতভাবে ইবোলাতে আক্রান্ত হয়েছেন। ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইবোলা ভাইরাসের বৈজ্ঞানিক নাম ‘অর্থোইবোলাভাইরাস জাইরেন্স’। এ পর্যন্ত ইবোলার ছয়টি ধরন বা প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। সেগুলো হলো—জাইর, সুদান, বুন্ডিবুগিও, রেস্টন, তাই ফরেস্ট ও বোম্বালি। ২০১৪ সাল থেকে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ঘটিয়েছে ‘জাইর’ প্রজাতিটি। তবে কঙ্গো এবং উগান্ডায় বর্তমান প্রাদুর্ভাবের জন্য ইবোলার যে ভাইরাসটিকে দায়ী করা হয়েছে, সেটি বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বলে জানা গেছে।

ইবোলা ভাইরাসের প্রধান শিকার মানুষ এবং প্রাইমেট গোত্রীয় বিভিন্ন প্রানী যেমন শিম্পাঞ্জি, গরিলা, ওরাংওটাং প্রভৃতি। এটি বাহুবাহিত কোনো রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তি বা প্রাণীর রক্ত, লালা, ঘাম, বমি, মল-মূত্র বা অন্যান্য শারীরিক তরলের সাথে সরাসরি সংস্পর্শে এলে এই ভাইরাস ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির ব্যবহৃত সুঁই বা কাপড় থেকেও এটি সংক্রমিত হতে পারে।

ফলখেকো বাদুড়কে ইবোলার প্রাকৃতিক বাহক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে এই বাদুড় নিজে ইবোলায় আক্রান্ত হয় না। কেবলমাত্র ভাইরাসটি বহন করে। এছাড়া বনমানুষ, হরিণ ও সজারু এই ভাইরাস বহন করে এবং মানুষের শরীরে ছড়িয়ে দিতে পারে।

ইবোলার উপসর্গগুলো হলো—হঠাৎ তীব্র জ্বর এবং তার সঙ্গে প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা-ক্লান্তি, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া ও বমি, শরীরের বিভিন্ন অংশে ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, এবং শেষ পর্যায়ে নাক, মুখ কিংবা মলদ্বার দিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তক্ষরণ। সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় দিন থেকেই এসব উপসর্গ দেখা দেওয়া শুরু করে।