খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি : খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেনাবাহিনীর গুইমারা রিজিয়নের অধীনস্থ সিন্দুকছড়ি জোন। এরই অংশ হিসেবে মানিকছড়ি উপজেলার দুর্গম জনপদে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণ হাফছড়ি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা বিদ্যালয় ভবনটি সিন্দুকছড়ি জোনের উদ্যোগে পুনঃসংস্কার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে পাঠদান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যালয়ে একটি নতুন বারান্দা নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন আরও উন্নত ও উপযোগী পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়তার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ে বিভিন্ন ধরনের ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে স্কুল ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ প্রদান করা হয়, যা তাদের শিক্ষাজীবনকে আরও উৎসাহিত করবে।
বিদ্যালয় সংস্কার ও শিক্ষা সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিন্দুকছড়ি জোন কমান্ডার লেঃ কর্ণেল ইসমাইল সামস আজিজি। তিনি নবনির্মিত স্থাপনার উদ্বোধন করেন এবং শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে নিয়মিত অধ্যয়ন, নৈতিক শিক্ষা অর্জন এবং দেশ গঠনে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘শিক্ষা হলো জাতির উন্নয়নের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এবং শিক্ষার মাধ্যমেই একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব’।
প্রধান শিক্ষক সুইচিং মারমা বলেন, ‘২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬ জন শিক্ষক দ্বারা জরাজীর্ণ আধাপাকা টিনসেট ভবনে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শতাধিক শিক্ষার্থীকে পাঠদান পরিচালিত হয়ে আসছে। সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় বিদ্যালয়টি প্রাণ ফিরে পেয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে দুর্গম এই অঞ্চলে শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে’।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক ও মানবিক উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সিন্দুকছড়ি জোনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় জনগণ আশা প্রকাশ করেন যে, পার্বত্য অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এ ধরনের ইতিবানচক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং দুর্গম এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।