রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৮ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

ঢাকায় আসছে আইএমএফ প্রতিনিধিদল

অর্থনীতি ডেস্ক : নতুন ঋণ কর্মসূচির শর্ত ও কাঠামো নিয়ে আলোচনা করতে আগামী ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফরে আসছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল।

সফরকালে অন্তর্বর্তী বা নতুন সরকারের ঘোষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিপুল অর্থের উৎস এবং এর সামষ্টিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ের ঋণচুক্তি থেকে সরে এসে নতুন সংস্কার এজেন্ডা, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন এবং রাজস্ব সংস্কারের লক্ষ্যে আইএমএফের কাছে নতুন ঋণ প্যাকেজ চাওয়া হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে।

সফরের প্রথম দিন অর্থ বিভাগের সঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম বৈঠকে রাজস্বনীতি, বাজেট এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক অর্থায়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হবে।

দ্বিতীয় বৈঠকে নবম পে-স্কেল এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে বরাদ্দ নিয়ে আলোচনা করা হবে।
চলতি বাজেটে ঘোষিত এই পে-স্কেল বাস্তবায়নে চলতি অর্থবছরে ৪৪ হাজার কোটি টাকা এবং পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য বছরে ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রয়োজন হবে।

আইএমএফ জানতে চায়, বর্তমান রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরকার কীভাবে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করবে।
এ প্রসঙ্গে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রধান দুর্বলতা হলো কম রাজস্ব আহরণ। এ অবস্থায় পে-স্কেলের মতো বড় ব্যয় বাস্তবায়নের আগে অর্থায়নের উৎস নিশ্চিত না করলে বাজেট ঘাটতি ও মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। নতুন ঋণ পাওয়ার চেয়েও আইএমএফের শর্তানুযায়ী ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং রাজস্ব সংস্কার করা এখন বেশি জরুরি।