মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০ আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৮ মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক : মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত জাতীয় কর্মকৌশল নির্ধারণ করতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করেছে সরকার।

রোববার প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন কমিটি গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের উপদেষ্টাকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারকে কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) মহাপরিচালককে সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকদের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে।

কমিটিকে সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার, পুলিশের বিশেষ শাখার অতিরিক্ত আইজিপি, বিজিবির অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন), এনএসআইয়ের পরিচালক (সীমান্ত) এবং সোশ্যাল স্ট্যাবিলিটি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর পরিচালককে রাখা হয়েছে।

কমিটিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অগ্রাধিকার নির্ধারণ ও আন্তসংস্থা বাস্তবায়ন তদারকি করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংস্থাগুলোর কাজের পরিধি ও ক্ষেত্র এই কমিটিকে নির্ধারণ করে দিতে বলা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রধান সমন্বয়কের সরাসরি তত্ত্বাবধানে রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়নের জন্য সদস্যসচিব একটি পর্ষদ গঠন করবেন। ওই পর্ষদের কাজ হবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব নির্ধারণ এবং রোহিঙ্গাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য রোহিঙ্গাবিষয়ক জাতীয় কর্মকৌশল প্রণয়ন। পর্ষদকে তিন মাসের মধ্যে এই কৌশল প্রণয়ন করে জাতীয় কমিটির কাছে উপস্থাপন করতে হবে।

কমিটি প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সংস্থার প্রধান বা অন্য যেকোনো কর্মকর্তা, প্রয়োজনে যেকোনো ব্যক্তিকে কমিটিতে সদস্য বা সহায়তাদানকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে।

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর কমিটির সচিবালয়সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জনবল ও অবকাঠামোগত সুবিধা দেবে। তবে কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির নির্দেশক্রমে পরে অন্য যেকোনো গোয়েন্দা সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী বাহিনী বা সংস্থা নির্ধারিত মেয়াদে কমিটির সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।