আন্তর্জাতিক ডেস্ক : অধিকৃত পশ্চিমতীরে নতুন করে এক হাজার ২৪টি অবৈধ বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে ইসরায়েল। এসব বসতি ফিলিস্তিনিদের এক হাজার ৬৯ ডুনামেরও বেশি, অর্থাৎ প্রায় এক হাজার ২৬৪ একর জমিতে নির্মাণ করা হবে।
এ তথ্য জানিয়েছে ফিলিস্তিনের কলোনাইজেশন অ্যান্ড ওয়াল রেজিস্ট্যান্স কমিশন।
শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কমিশন জানায়, অধিকৃত পশ্চিমতীরে কার্যত দখল আরও শক্তিশালী করা এবং বসতি সম্প্রসারণের লক্ষ্যেই ইসরায়েল দ্রুতগতিতে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলের সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনস্থ হায়ার প্ল্যানিং কাউন্সিল চলতি জুলাই মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত নয়টি বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি পরিকল্পনা অনুমোদনের পর্যায়ে রয়েছে এবং কয়েকটি সংরক্ষিত পর্যায়ে রাখা হয়েছে।
এসব পরিকল্পনার আওতায় মোট এক হাজার ২৪টি নতুন বসতি নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫৫টি ইউনিট ইতোমধ্যে অনুমোদন পেয়েছে এবং আরও ৫৬৯টি ইউনিট পরবর্তী পরিকল্পনা প্রক্রিয়ার জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
কমিশনের দাবি, এটি একটি সুসংগঠিত ও ধারাবাহিক নীতির অংশ। এর মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমসহ অধিকৃত পশ্চিমতীরে বিদ্যমান বসতিগুলো আরও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন বসতি স্থাপনকারীদের জন্য আবাসনের ঘনত্বও বাড়ানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নতুন বসতি স্থাপনের পাশাপাশি বর্তমানে বিদ্যমান বসতিগুলোর পরিধি বাড়ানোর দিকেও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে নির্মাণ পরিকল্পনা, ভূমি ব্যবহার এবং জোনিং নীতিতে পরিবর্তন এনে বসতিগুলোর ঘনত্ব বৃদ্ধি করা হচ্ছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জেনিনের দক্ষিণে আররাবা শহরের ফিলিস্তিনি জমিতে নির্মিত মেভো দোতান বসতির সম্প্রসারণ। সেখানে প্রায় ৫৩৯ ডুনাম জমিতে আরও ৪৫৫টি নতুন বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে।
এ ছাড়া দক্ষিণ-পশ্চিম পশ্চিমতীরের হেবরন গভর্নরেটে অবস্থিত বেইত হাগাই ও আসায়েল বসতি সম্প্রসারণের জন্য আরও দুটি পরিকল্পনা জমা দেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় ৫১৯ ডুনামের বেশি জমিতে আরও ৫৬৯টি বসতি নির্মাণের প্রস্তাব রয়েছে।
কমিশনের ভাষ্য, বসতি নির্মাণ পরিকল্পনা এখন এমন একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে, যার মাধ্যমে ফিলিস্তিনের ভৌগোলিক বাস্তবতা পরিবর্তন করা হচ্ছে। একদিকে বসতিগুলোকে ইসরায়েলি অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে, অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের নগর উন্নয়নের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে। কমিশনের মতে, এটি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে কার্যত ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার নীতিরই অংশ।
জাতিসংঘ বারবার বলেছে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি নির্মাণ আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। সংস্থাটির মতে, এসব বসতি স্বাধীন ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল-এই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
সূত্র: আনাদোলু