রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
৪ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

টঙ্গীতে আলিম পরীক্ষার্থী অপহরণ ও অজ্ঞান পার্টির শিকার, পরীক্ষা অনিশ্চিত

টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি : গাজীপুরের টঙ্গীতে তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান নাদিম (১৯) অপহরণ ও অজ্ঞান পার্টির খপ্পড়ে পড়ে সর্বস্ব খুইয়েছেন। এ ঘটনায় তিনি বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চলমান আলিম পরীক্ষার তিনটি বিষয়ে অংশ নিতে পারেননি। বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এদিকে ঘটনার পর পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পশ্চিম থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা জানান, তা’মীরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার আলিম পরীক্ষার্থী আব্দুর রহমান নাদিম গত ১৪ জুলাই আসরের নামাজ আদায়ের পর মাদরাসা ক্যাম্পাস থেকে টঙ্গী বাজারে প্রয়োজনীয় কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে তার সঙ্গে পরিবারের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গভীররাত পর্যন্ত সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরে রাত প্রায় ২টার দিকে উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে এক ব্যক্তি তাকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান। তার কাছে থাকা শিক্ষার্থী পরিচয়পত্র (স্টুডেন্ট আইডি কার্ড) থেকে অভিভাবকের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন।

স্বজনদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাকে অপহরণের করে উত্তরার দিকে নিয়ে যায়। পরে মারধর করে তার কাছে থাকা মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। ঘটনার পর তিনি দীর্ঘ সময় অচেতন ছিলেন এবং প্রায় দুই দিন পর স্বাভাবিকভাবে জ্ঞান ফিরে পান। উদ্ধারের পর তাকে প্রথমে যাত্রাবাড়ীর ইবনে সিনা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও তিনি এখনো পুরোপুরি সুস্থ নন।

এব্যাপারে আব্দুর রহমান নাদিমের বড় ভাই আব্দুল্লাহ আল নাঈম জানান, এ ঘটনার কারণে আব্দুর রহমান নাদিম ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিত আরবি দ্বিতীয় পত্র, ১৬ জুলাই হাদিস এবং ১৮ জুলাই ফিকহ প্রথম পত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তার শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে তার শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলেও জানান তিনি।

এবিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।এঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।