বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

মতিঝিলের পর সাভারেও পাইপবোমা, যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মতিঝিলে পাইপবোমা উদ্ধারের পর এবার সাভারের হেমায়েতপুরে একটি বাসা থেকে হাতবোমা, পাইপবোমা ও বোমা তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের ঘটনায় দুই ঘটনার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছে পুলিশ। এ ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফ নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার আরিফ নব্য জেএমবির সদস্য এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে আরো অভিযান চালানো হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতে অভিযান শুরুর পর বাসাটি ঘিরে রাখা হয়েছে, পাশাপাশি গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে নিয়ে আরো অভিযান চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

সাভারের অভিযানে অংশ নেওয়া এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, এ বাসায়ও পাইপবোমা পাওয়া গেছে। এখানে এমন কিছু বোমা বানানোর আলামত দেখা গেছে।
এ পাইপবোমার সঙ্গে কিছুদিন আগে মতিঝিলে মেট্রো রেল স্টেশনে পাওয়া পাইপবোমার মিল পাওয়া গেছে।

মতিঝিলের পাইপবোমার সঙ্গে এখানকার বোমার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা এ পুলিশ কর্মকর্তার।

অভিযানটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি) ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সদস্যরা। সেখানে সাভার থানা পুলিশও রয়েছে।

এর আগে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো ডিএমপির এক বার্তায় বলা হয়, ঢাকার মতিঝিলসহ বিভিন্ন স্থানে বোমা উদ্ধারের ঘটনায় আসামি গ্রেপ্তার নিয়ে বুধবার সংবাদ সম্মেলন করবে পুলিশ।

বাসাটির মালিক আব্দুল জলিল নামে এক ব্যক্তি। তিনি পক্ষঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। তার মেয়েরা বাসাটি দেখাশোনা করেন।

রাত ২টার দিকে তার বড় মেয়ে বলছেন, গত ৫ আগস্ট আব্বাস আলী নামের পরিচয়পত্র দিয়ে এক ব্যক্তি মাসে চার হাজার টাকা ভাড়ায় একটি ঘর নেন।
বাসায় ওঠার সময় বলেছিলেন, তিনি একজন প্রাইভেট কারচালক। পাশেই শ্যামপুর প্রাইমারি স্কুল হওয়ায় সেখানে বাচ্চাদের ভর্তি করাবেন, সে জন্য বাসাটি পছন্দ তার। ১০০০ টাকা অগ্রিম দিয়েছিলেন। একটি ফ্যান লাগিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর তাকে আর দিনের বেলায় দেখা যায়নি। এখন যেসব জিনিসপত্র পুলিশ উদ্ধার করছে, সেগুলো তিনি রাতের বেলায় কোনো এক ফাঁকে নিয়ে এসেছিলেন। মাঝে মাঝে রাতের বেলায় নিচতলা থেকে জিনিসপত্র জোরে জোরে রাখার শব্দ তারা পেয়েছেন।

এর আগে রাতের অভিযান নিয়ে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে হেমায়েতপুরের শ্যামপুর থেকে হাতবোমাগুলো উদ্ধার করা হয়।

‘একই এলাকার শ্যামপুর সরকারি প্রাইমারি স্কুলের পেছনে আরো হাতবোমা সংরক্ষিত আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’

ওসি বলেন, স্থানটি নিরাপত্তাবেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল এসেছে। বোমা উদ্ধারসহ অভিযান চালাতে সেখানে আছে সিটিটিসির সোয়াট ও বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা।

মঙ্গলবার রাতে সাভারের অভিযান নিয়ে সিটিটিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, গত ডিসেম্বরে কেরানীগঞ্জের মাদরাসায় আমরা বোমা তৈরির অন্যতম উপকরণ টিএটিপি (ট্রাই এসিটোন ট্রাই পার-অক্সাইড) পেয়েছিলাম। সাভারেও টিএটিপি পাওয়া গেছে। ধরন দেখে মনে হচ্ছে এরা লিংকড।

‘এ ছাড়া কেরানীগঞ্জে বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণের ঘটনার পর চেকপোস্টে পুলিশকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় আরিফ নামে একজন উগ্রবাদীর যোগসাজশের তথ্য তখনই পাওয়া গিয়েছিল। আমরা এখনো সেসব তথ্য যাচাই করতে পারিনি।’

তবে আশুলিয়ায় যে প্রেসারকুকার বোমাটি পাওয়া গিয়েছিল, সেটি হেমায়েতপুরের এই বাসায় তৈরি বলে ধারণার কথা জানিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, আশুলিয়ার বোমার সূত্র ধরেই এই আরিফকে শনাক্ত করা হয়। বিস্ফোরণের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, আশুলিয়ার বোমাটি হেমায়েতপুরের এ বাসাতেই তৈরি হয়েছিল।

গ্রেপ্তার আরিফকে নিয়ে আরো অভিযান চালানো হচ্ছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরিফ তার একজন গুরুর কথা বলেছেন, যিনি পেশায় হোমিও চিকিৎসক। আমরা সেখানে অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের স্যার কাল বিস্তারিত বলবেন।’

গত ২৬ ডিসেম্বর কেরানীগঞ্জের উম্মুল কুরা নামে একটি মাদরাসায় বোমা তৈরির সময়

তিনি নব্য জেএমবি সন্দেহে এর আগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তখন তার সহযোগী হিসেবে মোহাম্মদ আরিফ নামে একজনের যোগসাজশের বিষয়ে আভাস দিয়েছিল পুলিশ।

এরপর ফেব্রুয়ারিতে যাত্রাবাড়ীতে তল্লাশির সময় পুলিশকে ছুরিকাঘাত করে বোমার ব্যাগ ফেলে পালানো, মার্চে কুমিল্লার শিবমন্দিরে বিস্ফোরণ ও একই মাসে সায়েদাবাদে পুলিশের তল্লাশির সময় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় মোহাম্মদ আরিফের যুক্ততার বিষয়ে জানায় পুলিশ। তবে উগ্রবাদী অভিযান নিয়ে কিছুটা ‘রক্ষণশীল’ পুলিশ তখন আরিফের বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি।