বরিশাল প্রতিনিধি : বরিশাল থেকে বানারীপাড়া রুটের শিমুলতলা এলাকায় থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা চালকরা বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করার প্রতিবাদে ও মহাসড়কে থ্রি হুইলার বন্ধের দাবীতে বরিশাল থেকে ঢাকাসহ সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ করার আড়াই ঘন্টা পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
সোমবার দুপুর পৌনে ২টা থেকে এই বাস ধর্মঘট শুরু হয়। পরে আলোচনার ও মীমাংসার আশ্বাসে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে বাস ধর্মঘট তুলে নেওয়া হয়।
জানা গেছে, বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীণ বেশ কয়েকটি রুটে থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা চলাচল নিয়ে বাস শ্রমিক-মালিক ও থ্রি হুইলার চালক-মালিকদের মধ্যে দীর্ঘ বছর ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার সকালে শিমুল তলা এলাকায় বসে যাত্রী নেওয়াকে কেন্দ্র করে মাহিন্দ্রা চালক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। একপর্যায়ে মাহিন্দ্রা চালকরা বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে। এতে করে সকালেই বরিশাল-বানারীপাড়া-স্বরুপকাঠি রুটে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে মাহিন্দ্রা চালকরা আরো বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করায় প্রথমে নথুল্লাবাদ থেকে অভ্যন্তরীন ১৪ রুটে এবং পরবর্তীতে দূরপাল্লার রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে ধর্মঘটের ডাক দেয় বাস শ্রমিকরা। মহাসড়ক থেকে থ্রি হুইলার যান চলাচল বন্ধের দাবীতে তারা এই ধর্মঘটের ডাক দেয়।
বাস শ্রমিক রবিউল ইসলাম বলছিলেন, কোনো কারণ ছাড়াই শিমুূল তলা এলাকায় বসে মাহিন্দ্রা চালকরা একত্রিত হয়ে আমাদের গাড়ি ভাঙচুর ও বেশ কয়েকজন স্টাফকে মারধর করেছে। আমরা প্রথমে কোনো প্রতিবাদই করিনি। ভেবেছি হয়তো উভয় পক্ষের দোষ আছে। পরে যে বাসই বানারীপাড়ার দিকে যাচ্ছে, সেই বাসেই হামলা করছে তারা। এরপরপরই আমরা আমাদের বাস চলাচল বন্ধ করেছি।
বাস চালক আমজাদ বললেন, মহাসড়কে থ্রি হুইলার যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও পুলিশের সামনে থেকে তাদের মাসোয়ারা দিয়ে এসব যানবাহন চললেও তাদের কিছু বলা হয় না, মামলাও দেয়া হয় না। এসব যানবাহনের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে, মৃত্যু হচ্ছে বহু মানুষের। এসব যানবাহন বন্ধ করতে হবে। বিকালে এসব যানবাহন বন্ধে আলোচনার আশ্বাস দেওয়া হলে ধর্মঘট তুলে নেওয়া হয়।
বরিশাল জেলা বাস মালিক গ্রুপের সভাপতি মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, হঠাৎ করে বানারীপাড়া বসে মাহিন্দ্রা চালকরা সড়ক আটকে ঝামেলা শুরু করেছে বাস শ্রমিকদের সাথে। শ্রমিকরা প্রথম দিক দিয়ে কিছু বলেনি, পরে তারা দুপুরে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে বাধ্য হয়ে। বিকালে জনদুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের আলোচনার আশ্বাসে বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে এই বিষয়ে থ্রি হুইলার মাহিন্দ্রা চালক বা মালিকদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বরিশাল মহানগরের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের ওসি সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দুই পক্ষের সাথে কথা বলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা আলোচনায় বসার সম্মতি দিয়েছে। বাস চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বর্তমানে। তাছাড়া নথুল্লাবাদে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা রয়েছে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে।
এদিকে বাস ধর্মঘটের কারণে বিপাকে পড়েছে সাধারণ যাত্রীরা। বাস না পেয়ে অপেক্ষারত দেখা গেছে অনেক মানুষকে। এছাড়াও দূরপাল্লার যাত্রীরা বাসে বসে থাকতে থাকতে পড়েছেন অসহনীয় ভোগান্তিতে।