সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

লেস্টার সিটি ছেড়ে স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যাচ্ছেন হামজা

স্পোর্টস ডেস্ক : বাংলাদেশের তারকা মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী স্থায়ীভাবে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ফিরতে চলেছেন। ট্রান্সফার ডেডলাইনের আগে লেস্টার সিটি ছেড়ে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাবটিতে যোগ দেওয়ার পথে রয়েছেন ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম শেফিল্ড স্টারের খবর অনুযায়ী, রোববার হামজার মেডিকেল হওয়ার কথা রয়েছে। দুই ক্লাবের মধ্যে ‘কার্যত ফ্রি’ ট্রান্সফারের বিষয়ে সমঝোতাও হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতের ডেডলাইনের আগেই চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে চায় শেফিল্ড ইউনাইটেড।

সবকিছু পরিকল্পনামতো এগোলে মঙ্গলবার রাতে বোল্টন ওয়ান্ডারার্সের বিপক্ষে ম্যাচেই হামজাকে দলে পাওয়া যেতে পারে।
ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় ডেডলাইনের কয়েক ঘণ্টা আগে।

লেস্টারে মাত্র সাত বছর বয়সে যোগ দিয়েছিলেন হামজা।
দুটি লোনে বার্টন অ্যালবিয়নে খেলার পর ২০১৭ সালে লেস্টারের মূল দলে জায়গা করে নেন তিনি। ক্লাবটির হয়ে এখন পর্যন্ত ১৬৬টি সিনিয়র ম্যাচ খেলেছেন এই বাংলাদেশি মিডফিল্ডার।

২০২২-২৩ মৌসুমে ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলেন হামজা। এরপর ২০২৪ সালে লেস্টারের সঙ্গে প্রিমিয়ার লিগে ওঠার স্বাদ পান। গত মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলেছিলেন তিনি। দলটিকে প্লে-অফ ফাইনালে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও শেষ পর্যন্ত সান্ডারল্যান্ডের কাছে হেরে প্রিমিয়ার লিগে ওঠা হয়নি।

লেস্টারে রাসেল মার্টিনের অধীনে মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে খেলেছিলেন হামজা। তবে ইপসউইচ টাউন ও এমকে ডনসের বিপক্ষে গত সপ্তাহের ম্যাচে স্কোয়াডে ছিলেন না তিনি। এর মধ্যে ডার্বি কাউন্টির সঙ্গেও তার নাম জড়িয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত পুরোনো ক্লাব শেফিল্ডেই ফিরতে চলেছেন তিনি।

শেফিল্ড ইউনাইটেডের প্রথম পছন্দের রাইট-ব্যাক ফেমি সেরিকির চোটের কারণেই হামজাকে স্থায়ীভাবে দলে নেওয়ার উদ্যোগ নেয় ক্লাবটি। চোটের পুরো মাত্রা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে তার অনুপস্থিতির জন্য আগেভাগেই বিকল্প খুঁজতে শুরু করেছে শেফিল্ড।

এই পজিশনে সেরিকির বিকল্প হিসেবে আছেন ম্যাট ডোহার্টি। তবে গ্রীষ্মে ফ্রি এজেন্ট হিসেবে যোগ দেওয়া এই অভিজ্ঞ ফুটবলার এখনো পুরোপুরি ছন্দে ফিরতে পারেননি। তাই পরিচিত হামজাকেই বেছে নিয়েছে শেফিল্ড।

লেস্টারও হামজাকে ছেড়ে দিতে আগ্রহী। টানা দুই মৌসুম অবনমনের পর ক্লাবটি এখন লিগ ওয়ানে খেলছে এবং খেলোয়াড়দের বেতনের চাপ কমাতে চাচ্ছে। দুই পক্ষের এই অবস্থানের কারণেই কার্যত বিনামূল্যের ট্রান্সফারে হামজাকে ছাড়ার পথ তৈরি হয়েছে।

শেফিল্ডে ফিরলে শুধু চলতি মৌসুমেই নয়, ভবিষ্যতের দল গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন হামজা। আগামী গ্রীষ্মে জো রথওয়েল ও জাইরো রেইডেওয়াল্ডের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। কালভিন ফিলিপসও ধারে রয়েছেন। ফলে মাঝমাঠে ভবিষ্যতের পরিকল্পনাতেও হামজাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে ক্লাবটি।

কার্ডিফ সিটির বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্রয়ের পর শেফিল্ড ইউনাইটেড কোচ ক্রিস ওয়াইল্ডারও জানিয়েছেন, আরও দুজন খেলোয়াড়কে দলে নেওয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছে তার দল। এর মধ্যে একজন সেন্টার-ব্যাকও রয়েছেন।

হামজাকে অবশ্য ওয়াইল্ডারের কাছে অপরিচিত কেউ নন। ওয়াটফোর্ড ও শেফিল্ড ইউনাইটেডে তার সঙ্গে কাজ করেছেন এই কোচ। হামজা সম্পর্কে আগে ওয়াইল্ডার বলেছিলেন, ‘লেস্টারের হয়ে ১৫ বছর বয়সে তাকে খেলা দেখার পর থেকেই আমি তাকে অনুসরণ করেছি।’

তিনি আরও বলেছিলেন, ‘আমি তার ব্যক্তিত্ব পছন্দ করেছিলাম। সে এমন একটি দলের সঙ্গে ছিল, যারা প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে, এফএ কাপ জিতেছে, ইউরোপে খেলেছে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগেও অংশ নিয়েছে।’

হামজার অভিজ্ঞতার প্রশংসা করে ওয়াইল্ডার আরও বলেন, ‘সে সাফল্যের স্বাদ পেয়েছে এবং কীভাবে এই বিভাগ থেকে উঠে আসতে হয়, সেটাও জানে। সে খুব দ্রুত দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছিল। তাকে দলে পেয়ে আমি আনন্দিত।’