সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৭ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

নীলগিরি: সবুজে আকাঁবাঁকা পাহাড়ি পথ আর মেঘ-পাহাড়ের মিতালি

মুক্তবাণী রিপোর্ট : বান্দরবানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে দিনে এসে ফিরে যাওয়া দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে নীলগিরি অন্যতম।

পাহাড়চূড়ায় গড়ে তোলা দর্শনীয় স্থানটি নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় সকালে মেলে মেঘের হাতছানি। আর বর্ষায় হঠাৎ করেই পাহাড় মেঘে ছেয়ে গেলে বৃষ্টি আর মেঘ অন্য রকম এক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে স্থানটিতে।
প্রাণ জুড়ানো শীতল বাতাস পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরত্বের নীলগিরি জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত।
শহর থেকে নীলগিরি আসতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগে। নীলগিরি আসার পথে শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক পাহাড় দেখে থাকেন দর্শনার্থীরা।

বান্দরবান শহর থেকে নীলগিরি যাওয়ার পথে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার কোথাও দেখা মেলে ঘন কুয়াশার মতো মেঘ। দূরে পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা সাদা মেঘের দেখাও মেলে।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসী নারী-পুরুষের ব্যস্ততা। পাহাড়ে চাষ করা করলা, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা রকম ফল ও সবজি নিয়ে রাস্তার পাশে অপেক্ষা শহরে পাঠানোর জন্য। মাথায় ঝুড়ি বেঁধে পাহাড়ের ঢাল থেকে সবজি সংগ্রহ করে আনা, আগাছা পরিষ্কারসহ চাষাবাদ নিয়ে ভোর থেকেই কর্মব্যস্ত দেখা যায় পাহাড়ি নারী-পুরুষদের।

শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, ডাবলহ্যান্ড, টাইটানিক ভিউ পেরিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পথ শেষে নীলগিরি। পাহাড়চূড়ার অপূর্ব সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি।

নীলগিরির ক্যান্টিনে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা একদল দর্শনার্থীর সঙ্গে।

তাদের মধ্যে কলেজ পড়ুয়া তাবাসসুম তুবা বলেন, নীলগিরি থেকে চারপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখা যায়। বর্ষায় মেঘ ছুঁয়ে যায় এখানে। চারপাশের প্রকৃতি অসাধারণ। এখানে ক্যান্টিনে বসে চা-কফি খেতে খেতে পাহাড়ের চমৎকার ভিউ পাওয়া যায়।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বান্দরবান শহর থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় রওনা দিয়ে এখানে আসি। ভোরে পাহাড়ি পথে মেঘের দেখা মেলে। আর নীলগিরির চূড়া থেকে চারপাশের পাহাড় দেখা যায়। মাঝে মাঝেই ঠান্ডা হিম হাওয়া এসে গায়ে লাগে। বেশ ভালো লাগে।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক তরুণী বলেন, নীলগিরির আসল সৌন্দর্য দেখতে বা উপভোগ করতে হলে এখানে এসে রাত্রিযাপন করা উচিত। বর্ষা মৌসুমে এখানে দুই/এক রাত থাকলে প্রকৃতির অন্য রকম সৌন্দর্য দেখা যায়। পাহাড়ে রাত আসে অন্য রকম সৌন্দর্য নিয়ে। তাছাড়া এখানটা বেশ নিরিবিলি থাকে।

কক্সবাজার থেকে আসা সাকিব বলেন, পাহাড় সব সময়ই কাছে টানে! নীলগিরি তো একটা পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ের পুরো পথই দেখার মতো। আর নীলগিরিতে বসে চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য সহজেই চোখে পড়ে। সময় নিয়ে পাহাড় দেখার একটা বেস্ট জায়গা নীলগিরি! এখানে থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা রয়েছে। খুব বেশি খরচ হয় না।

এদিকে পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় অসংখ্য মানুষ। পাহাড়ি রাস্তার পাশে ছোট দোকান ঘরে পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, জাম্বুরা, বাঁশ কোড়ল বিক্রি করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে তারা বলেন, দর্শনার্থী বাড়লে বিক্রি বাড়ে। আয়-রোজগার মোটামুটি। কোনোমতে চলে যায়।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মধ্যে পাহাড় একটি। পরিশ্রম করার শক্তি থাকলে পাহাড় ভ্রমণ হতে পারে প্রকৃতির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার এক মাধ্যম। বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ হঠাৎ মেঘে ছেয়ে যাওয়া এবং এক পশলা বৃষ্টি এ সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। পাহাড়ি পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় মুহূর্তে। আর তাই অবসরে দলবেঁধে মানুষ ছুটে যায় পাহাড়ি এলাকায়।নীলগিরি: সবুজে আকাঁবাঁকা পাহাড়ি পথ আর মেঘ-পাহাড়ের মিতালি

মুক্তবাণী রিপোর্ট : বান্দরবানে ঘুরতে আসা পর্যটকদের কাছে দিনে এসে ফিরে যাওয়া দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে নীলগিরি অন্যতম।

পাহাড়চূড়ায় গড়ে তোলা দর্শনীয় স্থানটি নয়নাভিরাম সৌন্দর্য নিয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় সকালে মেলে মেঘের হাতছানি। আর বর্ষায় হঠাৎ করেই পাহাড় মেঘে ছেয়ে গেলে বৃষ্টি আর মেঘ অন্য রকম এক সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলে স্থানটিতে।
প্রাণ জুড়ানো শীতল বাতাস পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার দূরত্বের নীলগিরি জেলার থানচি উপজেলায় অবস্থিত।
শহর থেকে নীলগিরি আসতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা লাগে। নীলগিরি আসার পথে শৈলপ্রপাত ও চিম্বুক পাহাড় দেখে থাকেন দর্শনার্থীরা।

বান্দরবান শহর থেকে নীলগিরি যাওয়ার পথে পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তার কোথাও দেখা মেলে ঘন কুয়াশার মতো মেঘ। দূরে পাহাড়ের গায়ে আটকে থাকা সাদা মেঘের দেখাও মেলে।

সড়কের বিভিন্ন স্থানে আদিবাসী নারী-পুরুষের ব্যস্ততা। পাহাড়ে চাষ করা করলা, পেঁপে, মিষ্টি কুমড়াসহ নানা রকম ফল ও সবজি নিয়ে রাস্তার পাশে অপেক্ষা শহরে পাঠানোর জন্য। মাথায় ঝুড়ি বেঁধে পাহাড়ের ঢাল থেকে সবজি সংগ্রহ করে আনা, আগাছা পরিষ্কারসহ চাষাবাদ নিয়ে ভোর থেকেই কর্মব্যস্ত দেখা যায় পাহাড়ি নারী-পুরুষদের।

শৈলপ্রপাত, চিম্বুক, ডাবলহ্যান্ড, টাইটানিক ভিউ পেরিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পথ শেষে নীলগিরি। পাহাড়চূড়ার অপূর্ব সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি।

নীলগিরির ক্যান্টিনে কথা হয় ঢাকা থেকে আসা একদল দর্শনার্থীর সঙ্গে।

তাদের মধ্যে কলেজ পড়ুয়া তাবাসসুম তুবা বলেন, নীলগিরি থেকে চারপাশের পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখা যায়। বর্ষায় মেঘ ছুঁয়ে যায় এখানে। চারপাশের প্রকৃতি অসাধারণ। এখানে ক্যান্টিনে বসে চা-কফি খেতে খেতে পাহাড়ের চমৎকার ভিউ পাওয়া যায়।

পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, বান্দরবান শহর থেকে সকাল সাড়ে ৬টায় রওনা দিয়ে এখানে আসি। ভোরে পাহাড়ি পথে মেঘের দেখা মেলে। আর নীলগিরির চূড়া থেকে চারপাশের পাহাড় দেখা যায়। মাঝে মাঝেই ঠান্ডা হিম হাওয়া এসে গায়ে লাগে। বেশ ভালো লাগে।

নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক তরুণী বলেন, নীলগিরির আসল সৌন্দর্য দেখতে বা উপভোগ করতে হলে এখানে এসে রাত্রিযাপন করা উচিত। বর্ষা মৌসুমে এখানে দুই/এক রাত থাকলে প্রকৃতির অন্য রকম সৌন্দর্য দেখা যায়। পাহাড়ে রাত আসে অন্য রকম সৌন্দর্য নিয়ে। তাছাড়া এখানটা বেশ নিরিবিলি থাকে।

কক্সবাজার থেকে আসা সাকিব বলেন, পাহাড় সব সময়ই কাছে টানে! নীলগিরি তো একটা পর্যটন কেন্দ্র। পাহাড়ের পুরো পথই দেখার মতো। আর নীলগিরিতে বসে চারপাশের পাহাড়ি দৃশ্য সহজেই চোখে পড়ে। সময় নিয়ে পাহাড় দেখার একটা বেস্ট জায়গা নীলগিরি! এখানে থাকা-খাওয়ার সব ব্যবস্থা রয়েছে। খুব বেশি খরচ হয় না।

এদিকে পর্যটকদের ওপর নির্ভর করে জীবিকা নির্বাহ করছেন স্থানীয় অসংখ্য মানুষ। পাহাড়ি রাস্তার পাশে ছোট দোকান ঘরে পেঁপে, আনারস, পেয়ারা, জাম্বুরা, বাঁশ কোড়ল বিক্রি করতে দেখা গেছে। জানতে চাইলে তারা বলেন, দর্শনার্থী বাড়লে বিক্রি বাড়ে। আয়-রোজগার মোটামুটি। কোনোমতে চলে যায়।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের মধ্যে পাহাড় একটি। পরিশ্রম করার শক্তি থাকলে পাহাড় ভ্রমণ হতে পারে প্রকৃতির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ার এক মাধ্যম। বর্ষা মৌসুমে হঠাৎ হঠাৎ মেঘে ছেয়ে যাওয়া এবং এক পশলা বৃষ্টি এ সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয় কয়েকগুণ। পাহাড়ি পথের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয় মুহূর্তে। আর তাই অবসরে দলবেঁধে মানুষ ছুটে যায় পাহাড়ি এলাকায়।