শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২১ ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২২ রবিউল আউয়াল, ১৪৪৮ হিজরি

জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক : গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও দ্রুত জ্বালানি সংকট নিরসনসহ ৬ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। তবে লংমার্চ শুরুর আগে এক সমাবেশে জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরবেন বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

শনিবার সকাল ৭টায় শাপলা চত্বরে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ শেষে চট্টগ্রামের লালদিঘীর উদ্দেশে যাত্রা করে ১১ দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীদের বহর। এর আগে উদ্বোধনী সমাবেশ করে ১১ দলীয় ঐক্য।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, আমাদের কর্মসূচি ওষুধ ইতিমধ্যে কাজ করতে শুরু করেছে। বিভিন্ন জায়গায় তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।…আপনারা বলতেছেন এই করলে সেই করলে ছাড় দিয়ে কথা বলা হবে না। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি, জনগণের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি করলে জনগণও কাউকে ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’

লংমার্চের পথে কোনো বাধাকেই পরোয়া করা হবে না বলে জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের জন্য রাস্তায় নেমেছি, জনগণের অধিকার আদায় করে ঘরে ফিরব। জাতীয় সংসদে সমানভাবে এই আন্দোলন চলতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত কোটি মানুষের প্রতিটি অধিকার প্রতিষ্ঠা না হবে।’

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার; বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ-এই ছয় দাবিতে লংমার্চ করছে বিরোধী জোট। এর সঙ্গে সপ্তম দফা যোগ করেন জামায়াতের আমির। তিনি বলেন, লংমার্চের ছয় দফা দাবির সঙ্গে সপ্তম দফা যুক্ত হবে। কোনো চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজের অস্তিত্ব বরদাশত করা হবে না।

শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘গ্যাস নাই, পানি নাই, ইলেকট্রিসিটি নাই, কিন্তু গ্যাসের বিলও যথারীতি আছে, কারেন্টের ভুতুড়ে বিলও আছে। পানির জন্য কথা বলা যাবে না। অতিষ্ঠ হয়ে, বিরক্ত হয়ে সিফাত নামের একজন তরুণ কী বলেছিল, তাতে বাংলাদেশ ওলট-পালট হয়ে যাওয়ার মতো। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দলীয় সন্ত্রাসীরা থানায় গিয়ে তাকে নাজেহাল করেছে।’

এ সময় সিফাতকে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, ‘ওরে ছেড়ে দেন। ভালোয় ভালোয় ছেড়ে দেন। যদি না ছাড়েন, তাহলে মনে রাখবেন, এক নূর হোসেন, এক ইয়াসমিন, এক ডাক্তার মিলন অনেকের গদি একদম ওলট–পালট করে দিয়েছিল।’

পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সমাবেশে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। এতে আরও বক্তব্য রাখছেন ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা। পরে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর চট্টগ্রাম অভিমুখে লং মার্চের বহর রওনা হয়।

লং মার্চের রুটে পূর্বনির্ধারিত বিভিন্ন পয়েন্টে পথসভা হবে। প্রথমটি নারায়ণঞ্জের কাঁচপুর ব্রিজের কাছে ট্রাকস্টান্ডে, কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড, ফেনীর মহীপাল, মীরসরাই এবং সবশেষ চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।