☰

শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১১ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৪ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের পক্ষে বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী

মুক্তবাণী রিপোর্ট : স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দেড় দশকের বেশি সময়ের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের পর বাংলাদেশ পুনর্গঠনে সরকারের ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’ বা ‘থ্রি-আর’ কৌশলের কথা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানবসৃষ্ট সংঘাতের কারণে বিভিন্ন দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হচ্ছে।

এতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি মানবিক সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।
যুদ্ধ ও সংঘাতের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও পড়ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জ্বালানি নিরাপত্তার সংকট, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে চাপ বাড়াচ্ছে। এসব সংকট মোকাবিলায় সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপ, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২৪ সালে বাংলাদেশ ‘ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত’ হয়েছে-এমন দাবি করে তিনি জানান, দেশ এখন আবার গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জনগণই সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের গুরুত্বকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

দেশ পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, সরকার ‘রিকভারি, রেস্টোরেশন অ্যান্ড রিকন্সট্রাকশন’-এই তিনটি স্তম্ভের সমন্বয়ে ‘থ্রি-আর’ কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ভাষণে তিনি তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। পাশাপাশি নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংকটের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, নিরস্ত্রীকরণ, অভিবাসন এবং প্রযুক্তিতে ন্যায্য প্রবেশাধিকারের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে মিয়ানমারে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রযুক্তির প্রসঙ্গে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ভাষণের শেষদিকে জাতিসংঘের নীতি ও মূল্যবোধের প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে বিশ্বশান্তি ও মানবতার স্বার্থে বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।