মুক্তবাণী রিপোর্ট : মাগুরায় ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে এক আবাসিক গ্রাহকের নামে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার বেশি বিল দেওয়ার ঘটনায় মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. মহিতুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নির্দেশে বুধবার পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড এ ব্যবস্থা নেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী। তিনি গ্রাহককে জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো সমস্যা হলে কর্তৃপক্ষকে সরাসরি জানানোর জন্যও তিনি তাকে অনুরোধ করেন।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, মিটার পরিবর্তনের সময় অসাবধানতাবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়।
এ কারণে ওই গ্রাহকের নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের বিল তৈরি হয়।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী।
মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের বিলটি ইস্যু করা হয়।
বিলের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর মিটারের বর্তমান রিডিং ছিল ৩৯৫।
এর আগে ৮ আগস্টের রিডিং ছিল ১৬০। অর্থাৎ এক মাসে ওই গ্রাহক ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন।
কিন্তু ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিপরীতে বিলটিতে ডিমান্ড চার্জ হিসেবে দেখানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা। এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট এবং ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫৯৩ টাকা।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিলের পরিমাণ ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা হওয়ার কথা ছিল।
অথচ ২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। বিলম্ব মাশুলসহ সেই বিল দাঁড়ানোর কথা ২ হাজার ৫৬ টাকা।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটি ইস্যু করা হয়। বিল পরিশোধের শেষ তারিখ ছিল মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর। গ্রাহকের শ্রেণি হিসেবে বিলে ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ উল্লেখ করা হয়।
এর আগে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, মিটার পরিবর্তনের সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের অঙ্কগুলো ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হওয়ায় অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছে। পরে বিলটি সংশোধন করা হবে বলে তিনি জানান।
ঘটনাটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বিদ্যুৎমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর তিনি সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।
বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনবান্ধব ও সেবাধর্মী প্রশাসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।