☰

বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৯ রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

ফেনীতে নুসরাত হত্যা: দণ্ডপ্রাপ্ত ৬ আসামির মধ্যে ৪ জনের আপিল

মুক্তবাণী রিপোর্ট : ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাই কোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পাওয়া ছয় আসামির মধ্যে চারজনের পক্ষে আপিল ও লিভ টু আপিল করা হয়েছে।

বুধবার আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “আজকে চারজনের পক্ষ হয়ে আমরা আপিল ও লিভ টু আপিল দায়ের করেছি। তারা হলেন- সিরাজউদ্দৌলা, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।”

গত ২৪ অগাস্ট নুসরাত হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে দুজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেন হাই কোর্ট।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা দুজন হলেন -নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীম।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি এবং জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

খালাসপ্রাপ্ত ১০ আসামি হলেন সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

হাই কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে শিশির মনির বলেন, “হাই কোর্ট নিম্ন আদালতের রায়কে ‘মিসক্যালকুলেটেড জাজমেন্ট’ এবং ‘মাইন্ডলেস অ্যান্ড ইররেসপন্সিবল সেন্টেন্সিং’ বলেছে।”

২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।

ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর সে বছরের ২৭ মার্চ পুলিশ অধ্যক্ষ সিরাজকে গ্রেপ্তার করে।

এরপর ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষা কেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পাঁচ দিন পর ১০ এপ্রিল মারা যান এই তরুণী।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় পরিণত হয়।

প্রথমে সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই বছরের ২৯ মে পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ আলোচিত এ মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের পেপারবুক তৈরি করা হয়।

চলতি বছরের ১০ জুন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য হাই কোর্টের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন।

ওই বেঞ্চে নুসরাত হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে ২৪ অগাস্ট রায় দেওয়া হয়।

যৌন হয়রানির ঘটনার এ মামলায় নুসরাতকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন আইসিটি আইনে আরেকটি মামলা করেছিলেন।

ওই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর আদালত ওসি মোয়াজ্জেমকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেয়।