শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৭ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১১ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

ডাক ও টেলিযোগাযোগের ১৫ বছরের অনিয়মের শ্বেতপত্র প্রকাশ

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের গত ১৫ বছরের দুর্নীতি, অনিয়ম ও কাঠামোগত দুর্বলতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ করেছে সরকার। ৩ হাজার ২৭২ পৃষ্ঠার এই শ্বেতপত্র সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।

শ্বেতপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অতিরিক্ত ছোট ছোট লাইসেন্স, বহুস্তরীয় অনুমোদনব্যবস্থা ও দুর্বল নিয়ন্ত্রণের কারণে টেলিযোগাযোগ খাতে জটিল ও অকার্যকর বাজারকাঠামো তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগ ছড়িয়ে পড়লেও কাঙ্ক্ষিত মানের সেবা নিশ্চিত হয়নি।

প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে নীতিনির্ধারণে তাল মেলানো যায়নি বলেও বলা হয়েছে শ্বেতপত্রে। মূল্যকেন্দ্রিক স্পেকট্রাম নীতি, অবকাঠামো শেয়ারিংয়ে বিলম্ব এবং ইন্টারনেটবিষয়ক কঠোর নিয়মের কারণে ফাইভ-জি সহ আধুনিক প্রযুক্তির সুফল পুরোপুরি পাওয়া যাচ্ছে না।

শ্বেতপত্রে আরও বলা হয়েছে, আমদানিপ্রক্রিয়া, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থার অদক্ষতার কারণে ডেটাসেবার প্রকৃত খরচ বেড়েছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাহকদের ওপর। শহরের তুলনায় সেখানে সেবার মান কম হলেও খরচ তুলনামূলক বেশি।

অভিযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে গ্রাহক অসন্তোষ বাড়ছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ এই ব্যবস্থাগত দুর্বলতার বোঝা সরাসরি বহন করছে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব স্পষ্ট না থাকার বিষয়টিও শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে। এতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে এবং জবাবদিহি দুর্বল হচ্ছে।

টাস্কফোর্স সুপারিশ করেছে দায়িত্বের স্পষ্ট বিভাজন, একটি স্বাধীন আপিলব্যবস্থা, গবেষণা ও নীতি বিশ্লেষণের জন্য আলাদা ইউনিট, প্রকাশ্য কর্মদক্ষতা সূচক এবং শক্তিশালী প্রকল্প ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলার।

শ্বেতপত্রে করনীতিরও সমালোচনা করা হয়েছে। বলা হয়েছে, বর্তমান করকাঠামো নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও নতুন বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাষ্ট্র যদি সবার জন্য দ্রুত ও সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড নিশ্চিত করতে চায়, তবে করনীতিকে সেই লক্ষ্য অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করতে হবে।

প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনক্রমে ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল গত ১৫ বছরে টেলিযোগাযোগ খাতে সংঘটিত দুর্নীতি ও অনিয়মের ওপর একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রণয়ন।

সরকার জানিয়েছে, এই শ্বেতপত্র টেলিযোগাযোগ খাতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান। সদস্য ছিলেন অধ্যাপক ড. মুছাবের উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ড. নিয়াজ আসাদুল্লাহ, অধ্যাপক ড. লুতফা আক্তার, টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এখলাস উদ্দিন আহমেদ, প্রযুক্তিবিদ ফিদা হক ও এজাহার উদ্দিন অনিক।

প্রথমে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়ানো হয়। অবশেষে আট মাস পর এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলো।