নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা করে লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটজন আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রিজনভ্যানে করে তাদের কারাগার থেকে আনা হয়। মামলার রায় ঘোষণা করবেন ট্রাইব্যুনাল-২-এর তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল, যার নেতৃত্বে আছেন চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
গ্রেফতার আসামির মধ্যে রয়েছেন ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবি’র তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান, এসআই শেখ আবজালুল হক ও কনস্টেবল মুকুল।
পলাতক আসামিরা হলেন-ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক নির্মল কুমার দাস, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও স্থানীয় নেতা রনি ভূঁইয়া।
মামলায় মোট ৫৩ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত সাক্ষ্যগ্রহণ চলেছে। প্রথম সাক্ষী ছিলেন শহীদ আস সাবুরের ভাই রেজওয়ানুল ইসলাম এবং শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজলের বাবা মো. খলিলুর রহমান। মোট ২২ কার্যদিবসে ২৪ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়, যার মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানও ছিলেন।
এরপর আসামি আরাফাত হোসেন সাফাই সাক্ষ্য দেন। ১৪ জানুয়ারি প্রসিকিউশন যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে। এরপর আসামি পক্ষের যুক্তি ও প্রসিকিউশনের পাল্টা যুক্তি খণ্ডন শেষে ২০ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়।
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনাল এই মামলায় এটি তৃতীয় রায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করার তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এই ঘটনায় শহীদ হয়েছেন সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।
গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ও বিচার শুরু হয়। সেই সময় উপস্থিত আটজন আসামির সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে এসআই শেখ আবজালুল হক দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। প্রসিকিউশন মামলায় ৩১৩ পৃষ্ঠা তথ্য, ১৬৮ পৃষ্ঠা দালিলিক প্রমাণ এবং দুইটি পেনড্রাইভ সংযুক্ত করেছে।
রায় ঘোষণার দিনে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকা নিরাপত্তার দিক থেকে শক্তিশালী করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী তৎপর রয়েছে, পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও নিরাপত্তা তদারকি করছেন।