বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৯ মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৩ শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

খালেদা জিয়া এই মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে পারলেন না : রাষ্ট্রদূত মুশফিক

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেছেন, তিনি তার জীবনটা মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য অকাতরে বিলিয়ে দিয়েছেন। তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে, ভোটাধিকারের প্রশ্নে বিন্দুমাত্র আপস করেননি। যার ফলে তার জীবনের শেষ দিনগুলো কারাগারে কাটাতে হয়েছে। তবু তিনি আপস করেননি।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, আজকে তিনি নেই। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণের সাক্ষী হতে পারলেন না। কিন্তু তার যে গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধা, অর্থনীতির প্রতি যে উদ্বেগ, সেগুলো আপনারা নিশ্চয়ই মনে রাখবেন।

গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে জয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের এই রাষ্ট্রদূত।

মুশফিক বলেন, আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর আপনারা এক ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছেন। এক মাহেন্দ্রক্ষণ প্রত্যক্ষ করবেন সশরীরে। যারা বাংলাদেশের সীমারেখায় অবস্থান করছেন। ভোটের দিন, ভোট দেবেন আপনারা। আপনাদের পছন্দের প্রার্থীকে, নিজের অধিকার আদায়ের জন্য। যে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য আপনাদের অনেক কষ্ট করতে হয়েছে, অনেক সংগ্রাম করতে হয়েছে। অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা এ অধিকারটি প্রতিষ্ঠা করেছি। মাত্র কয়েক সপ্তাহে ১৪০০ তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। অসংখ্য মানুষের রক্তের বিনিময়ে, ত্যাগের বিনিময়ে গুম-খুন, জেল-জুলুমের মধ্য দিয়ে আজকের এ দিনটি আমাদের সামনে সমাগত, সেটি হচ্ছে প্রতিনিধি নির্বাচন করা।

তিনি বলেন, আমরা আর পেছনে ফিরে যেতে চাই না। ছাত্রদের আর শাহবাগের জড়ো করতে চাই না। এখন আমাদের দৃষ্টি নিবন্ধন করতে হবে লুক্সেমবার্গের দিকে। যেটি বিশ্বের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। ছাত্রদের তাদের কর্মে নিজেকে নিয়োজিত করবে। আর যাতে তাদের আন্দোলন করতে না হয়, সেদিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।

মুশফিক বলেন, নির্বাচনপরবর্তী সময়ে যেটি মনে রাখতে হবে, দেশ গঠন। এদিকে আমাদের সবাইকে মনোনিবেশ করতে হবে। আমরা দেখতে চাই, নির্বাচনপরবর্তী বাংলাদেশ হবে একটি সহনশীল বাংলাদেশ। যে দেশ হবে সব মতের, সব পথের, সব ধর্মের এবং সব বর্ণের। এটি হবে উদার গণতন্ত্র ও আধুনিক বাংলাদেশ। বিশ্বসভায় মাথা উচু করে দাঁড়াবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির যে ভোট, সেটি হবে গণতন্ত্রের পক্ষে, সেটি হবে স্বাধীনতা ও সার্বভোমত্বের পক্ষে এবং বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পক্ষে, অর্থনৈতিক মুক্তির পক্ষে।

নির্বাচন পরিচালনাকারী ও রিটার্নিং অফিসারদের উদ্দেশে মুশফিক বলেন, এমন কোনো কাজ করা ঠিক হবে না, যেটি ড. ইউনূসের সরকারের ওপর প্রভাব পড়ে। যারা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, যেন তার ওপরে আপনাদের কোনো কাজের দায় এসে না পড়ে। আপনাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শেষে বিবেককে বিসর্জন দিয়ে কোনো কাজ না করার আহ্বান জানিয়েছেন মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।