শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৭ ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ক্ষমা না চাইলে মামলার হুমকি, মিমিকে আইনি নোটিশ

বিনোদন ডেস্ক : বনগাঁয় অনুষ্ঠান করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হওয়ার ঘটনায় আয়োজক তনয় শাস্ত্রীকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী ও তৃণমূলের প্রাক্তন সংসদ সদস্য মিমি চক্রবর্তী। এবার সেই মামলায় জামিনে মুক্ত হয়েই অভিনেত্রীকে রীতিমতো হুঁশিয়ারি দিলেন ওই আয়োজক। আইনজীবী তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মাধ্যমে পাঠানো এক আইনি নোটিশে মিমির কাছে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়াসহ ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

তনয় শাস্ত্রীর পাঠানো নোটিশে মূলত তিনটি বিষয়ের উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথমত, অনুষ্ঠানের পারিশ্রমিক হিসেবে মিমিকে দেওয়া ২ লাখ ৬৫ হাজার রুপি ফেরত চাওয়া হয়েছে। আয়োজকের দাবি, রাত সাড়ে ৯টায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও মিমি পৌঁছান সাড়ে ১১টায় এবং সাথে সাথে স্টেজে ওঠেননি।

দ্বিতীয়ত, মিমির দায়ের করা অভিযোগের কারণে তনয় শাস্ত্রীকে কারাভোগ করতে হয়েছে, যা তার মানহানি ঘটিয়েছে। এর ক্ষতিপূরণ হিসেবে ২০ লাখ রুপি দাবি করা হয়েছে।

তৃতীয়ত, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে মিমিকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা দায়েরের কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ জানুয়ারি রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় একটি অনুষ্ঠানে গেলে আয়োজকদের দ্বারা অপমানিত হয়ে মঞ্চ থেকে নামতে বাধ্য হন মিমি। এরপর তনয় শাস্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। তবে দেরি করে পৌঁছানোর যে অভিযোগ আয়োজকরা তুলেছেন, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন মিমি।

এক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অভিনেত্রী স্পষ্ট জানান, “আত্মসম্মান, কঠোর পরিশ্রম ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে আমি ক্যারিয়ার গড়েছি। মঞ্চের পেছনে নিজের গাড়িতে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় অপেক্ষা করেছি সম্মান রক্ষার্থে, কারণ তখনো অন্য একজন শিল্পী তার পরিবেশনা শেষ করছিলেন।”

প্রতিশোধ নয়, বরং জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই তিনি আইনি পথ বেছে নিয়েছেন জানিয়ে বলেন, “আমরা যদি সীমারেখা না টানি, তাহলে এটা অন্যদের সঙ্গেও ঘটতেই থাকবে।”

রাজনৈতিক ময়দান ছাড়ার পর অভিনয়ে খুব একটা সরব নন মিমি। ২০২৪ সালে তাকে দুটি সিনেমায় দেখা যায়। এর মধ্যে বাংলাদেশের মেগাহিট ‘তুফান’ সিনেমায় আইটেম গানে পারফর্ম করে দারুণ সাড়া ফেলেন তিনি। গত বছর মুক্তি পায় তার সর্বশেষ সিনেমা ‘রক্তবীজ টু’। বর্তমানে তার হাতে দুটি সিনেমার কাজ রয়েছে। ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ সিনেমার শুটিং ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং বর্তমানে সৃজিত মুখার্জির পরিচালনায় ‘এম্পেরর ভার্সেস শরৎচন্দ্র’ সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি।