আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরানে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে জেন-জি প্রজন্মের বিক্ষোভ। রাজধানী তেহরানে গতকাল রোববার দ্বিতীয় দিনের মতো শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) এএফপির বরাতে আল আরাবিয়া ইংলিশ জানিয়েছে, গত ডিসেম্বর-জানুয়ারির বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতদের স্মরণে এবং হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবিতে শনিবার থেকে রাজধানীতে আন্দোলন শুরু করে তরুণ প্রজন্মের সরকারবিরোধী অংশ। এর পাল্টায় ক্ষমতাসীন সরকারের সমর্থক তরুণ-তরুণীরা পাল্টা মিছিল ও সমাবেশের ডাক দেয়।
ইরানের অনলাইন সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, তেহরানের তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এর মধ্যে শরিফ বিশ্ববিদ্যালয় সরকারবিরোধী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, শরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাবেক শাহ মুহম্মদ রেজা পাহলভির সময়কার পতাকা হাতে নিয়ে মিছিল করছেন এবং সরকারবিরোধী নানা স্লোগান দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিনের আর্থিক দুরবস্থার জেরে গত ডিসেম্বরে রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়। দ্রুত তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় ধরনের সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। নিরাপত্তা বাহিনী কঠোর হাতে দমন অভিযান চালায়। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, সরকারি বাহিনীর হাতে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরান কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, বিক্ষোভে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তাদের দাবি, এসব সহিংসতা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে হয়েছে এবং ইরানের শত্রুরা তা উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে সাত হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই বিক্ষোভকারী। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।