শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগে রিজওয়ানাকে রাজসাক্ষী বলছে জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন নিয়ে জামায়াতে ইসলামী যে ‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ অভিযোগ তুলেছিল, তার রাজসাক্ষী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান—এমন দাবি করেছে দলটি।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন দলটির নায়েবে আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন বাহ্যিকভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হলেও সন্ধ্যার পর থেকেই কেন্দ্র দখল, জাল ভোট ও নানা অনিয়মের খবর আসতে থাকে। প্রায় ৫৩টি আসনে এমন অভিযোগ দাখিল করেছে জামায়াত। কিন্তু এবার তারা রাজসাক্ষী পেয়েছে—সাবেক উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান।

তাহের জানান, রিজওয়ানা হাসান একজন সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপচারিতায় স্বীকার করেছেন যে নারীদের অধিকার নিশ্চিত না হলেও বিরোধী দলগুলোকে মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি। তার বক্তব্য থেকেই নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

জামায়াতের নায়েবে আমির বলেন, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ও বর্তমান সরকারের কাছে জানতে চাই—কাদের যোগসাজশে জামায়াতকে প্রধান শক্তি হিসেবে মেজরিটি পেতে বাধাগ্রস্ত করা হলো। একই সঙ্গে তিনি রিজওয়ানা হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনার দাবি জানান।

এ সময় তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ করে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনারও দাবি করেন।

তাহের অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা থাকা অবস্থায় খলিলুর রহমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে শপথভঙ্গ করেছেন। তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও তোলেন তিনি।

তাহের বলেন, খলিলুর রহমান লন্ডন ষড়যন্ত্রের প্রধান ছিলেন এবং বিএনপির সুবিধার্থে কাজ করেছেন। বিএনপি তাকে বিতর্কিত হলেও মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এ ধরনের ষড়যন্ত্রের কারণে জাতি একটি সুষ্ঠু নির্বাচন থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

জামায়াতের নায়েবে আমির আরও বলেন, জাতির আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু ষড়যন্ত্র ও বিশ্বাসঘাতকতার কারণে তা ভণ্ডুল হয়েছে।

তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, স্বচ্ছতার পরিচয় দিতে হলে এসব ষড়যন্ত্রকারীদের জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনতে হবে এবং খলিলুর রহমানকে মন্ত্রীসভা থেকে অপসারণ করতে হবে।