মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭ রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে হরমুজ পাড়ি দেওয়া ৪ জাহাজ

গ্রাম প্রতিনিধি : মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দেওয়া গ্যাসবাহী চারটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।

রোববার (৮ মার্চ) দুপুর ২টায় তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসবাহী এলপিজি সেভেন নামের একটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ওমানের সোহার বন্দর থেকে জাহাজটি ২২ হাজার ১৭২ মেট্রিক টন গ্যাস নিয়ে আসছে। এছাড়া আরও তিনটি জাহাজ বাংলাদেশ অভিমুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। এতে আপাতত দেশের জ্বালানি সরবরাহে কিছুটা স্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে তরল প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) বহনকারী আল জোরা নামের জাহাজটি ৬৩ হাজার ৩৮৩ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৩ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টায় বন্দরে পৌঁছেছে। একই জায়গা থেকে আসা আল জাসাসিয়া জাহাজটি ৬৩ হাজার ৭৫ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ৫ মার্চ সকাল সাড়ে ১০টায় বন্দরে ভিড়েছে।

এছাড়া রাস লাফান থেকে ৬২ হাজার ৯৮৭ মেট্রিক টন এলএনজি বহনকারী লুসাইল জাহাজটি সোমবার (৯ মার্চ) বন্দরে পৌঁছাবে। একই বন্দর থেকে রওনা হওয়া আল গালায়েল জাহাজটি ৫৭ হাজার ৬৬৫ মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ১১ মার্চ এবং লেব্রেথাহ জাহাজটি ৬২ হাজার মেট্রিক টন এলএনজি নিয়ে ১৪ মার্চ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, ওমানের সোহার বন্দর থেকে আসা জি-ওয়াইএমএন নামের আরেকটি এলপিজি জাহাজ ১৯ হাজার ৩১৬ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি ভোরে বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে মেরিন ইথানল গ্যাস (এমইজি) বহনকারী বে-ইয়াসু জাহাজটি ৫ হাজার ১৯ মেট্রিক টন কার্গো নিয়ে ৫ মার্চ বন্দরে ভিড়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, আটটি জাহাজ ইতোমধ্যে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে চারটি বন্দরে পৌঁছেছে, একটি আজ আসছে এবং বাকি তিনটি পথে রয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার কারণে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এই প্রণালি ব্যবহার করেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে বাংলাদেশের বড় অংশের জ্বালানি পণ্য আমদানি করা হয়। ফলে পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।