নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই আন্দোলনের সময় যুবদলকর্মী হত্যা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতিসহ চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে বয়স বিবেচনায় জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামির বয়স ৮১ বছর হওয়ায় মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে জামিন দেওয়া হয়েছে।
রোববার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চের সাত পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।
এর আগে, গত ৪ মার্চ একই বেঞ্চ চার মামলায় এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
এ মামলার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন।
এছাড়া একই অভিযোগে ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভুঁইয়া এবং একই দিনে বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা আরেকটি মামলা করেন।
অন্যদিকে বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের ৪ আগস্ট দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় এ বি এম খায়রুল হকসহ মোট আটজনকে আসামি করা হয়।
এ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় তার জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
এরপর গত ১১ মার্চ রাজউকের প্লট গ্রহণ সংক্রান্ত দুদকের মামলায় তাকে জামিন দেন বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
তবে যাত্রাবাড়ী থানার আরও একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো থাকায় এই মুহূর্তে তিনি মুক্তি পাচ্ছেন না।