আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নিয়ে ইরানের অবস্থান স্পষ্ট করলেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি জানিয়েছেন, ইরান কোনো সাময়িক ‘যুদ্ধবিরতি’ চায় না, বরং তারা এই যুদ্ধের স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ সমাপ্তি চায়। মঙ্গলবার আল-জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো স্থায়ী সমাধানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—এমন নিশ্চয়তা এবং চলমান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যথাযথ ক্ষতিপূরণ থাকতে হবে।
সম্প্রতি গুঞ্জন উঠেছিল যে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা প্রস্তাবে ইরান সাড়া দিয়েছে। তবে এই দাবি সরাসরি নাকচ করে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমানে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে না। এটি সরাসরি বা আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আরাগচি জানান, অতীতের মতো এখনো তিনি মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের কাছ থেকে বার্তা পাচ্ছেন।
তবে এটিকে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, এসব বার্তা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পৌঁছানো হয় এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যেও কিছু যোগাযোগ রয়েছে। তবে ইরানের ভেতরে কোনো নির্দিষ্ট পক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মাঝে তিনি বলেন, প্রণালিটি বর্তমানে পুরোপুরি খোলা রয়েছে।
তবে একটি বিশেষ সতর্কতা দিয়ে তিনি জানান, যারা ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি শত্রুতায় লিপ্ত, তাদের জন্য এই পথ ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করা হতে পারে। বিপরীতে, বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইরান সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আসন্ন ভাষণের প্রেক্ষাপটে আরাগচি বলেন, ‘ইরানের জনগণকে হুমকি দিয়ে কিছু অর্জন করা যাবে না।’ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরানের সঙ্গে সম্মানজনক ভাষায় কথা বলার এবং আলোচনার পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো শর্ত বা প্রস্তাবের জবাব দেয়নি।