আন্তর্জাতিক ডেস্ক : যুদ্ধবিরতিতে যেতে ইরানের দেওয়া ১০ দফা দাবি মেনে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই দাবিগুলোর একটি বাদে সব কয়টি মেনে নিয়েছে ইসরাইলও। তবে প্রায় সবগুলোই দখলদার দেশটির স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাই এই চুক্তি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে ইসরাইলজুড়ে।
যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে চুপ থাকার কারণে ইসরাইলি জনগণের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সমালোচকদের দাবি, নিজের অবস্থান থেকে কিছুই বলার ছিল না নেতানিয়াহুর। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে একপ্রকার পরাজয় হিসেবে দেখছেন তারা।
ইসরাইলের বিরোধী দলের নেতা ইয়ার ল্যাপিড এই চুক্তিকে ‘রাজনৈতিক বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন। নেতানিয়াহুর সমালোচনা করে লাপিদ বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়গুলো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় ইসরাইলকে আলোচনাতেই রাখা হয়নি।’
তিনি জানান, সামরিক বাহিনী তাদের লক্ষ্য পূরণ করেছে এবং সাধারণ জনগণ দৃঢ়তা দেখিয়েছে। তবে তার অভিযোগ, নেতানিয়াহু ‘রাজনৈতিক’ ও ‘কৌশলগত’—দুই দিক থেকেই ব্যর্থ হয়েছেন। এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
এদিকে নিৎজান শাপিরা নামের ইসরাইলের একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে ইসরাইলি কর্মকর্তাদের নীরবতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
একটি পোস্টে তিনি বলেন, আজ রাতে কি কোনো ইসরাইলি কর্মকর্তা বা সূত্র জনগণের সঙ্গে কথা বলবে? তারা কি কিছু লিখবে? কোনো আপডেট দেবে? নাকি আমরা এখনো ইরানের সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম’ এবং পাকিস্তান সরকারের মুখপাত্রের বক্তব্য থেকেই পরিস্থিতি জানতে থাকব?
একইসঙ্গে ইসরাইলের জনগণও এই যুদ্ধবিরতিকে গ্রহণযোগ্য মনে করছেন না। তাদের মতে, ইরান তাদের সক্ষমতা নিয়েই আছে। তাদের এতটুকুও টলাতে পারেনি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র।