শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জনবলসংকটে বিশ্বম্ভরপুরের ৫০ শয্যার হাসপাতাল

বিশ্বম্ভরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি : সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৫টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত এলাকার গরিব, অসহায় সব বয়সের মানুষের চিকিৎসাসেবার একমাত্র প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সেখানেও চিকিৎসকসহ বিভিন্ন পদে জনবল না থাকার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ৩১ শয্যাবিশিষ্ট। গত ২০২৩ সালের ৬ জানুয়ারি তৎকালীন সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান মিছবাহ ৫০ শয্যা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নীত করে উদ্বোধন করেন।
যন্ত্রপাতি থাকলেও ৫০ শয্যার জনবল পদায়ন করা হয়নি। জনবল না দেওয়ার মঞ্জুরিত ৩৭টি পদে ১১২ জনের মধ্যে ৬৪ জন কর্মরত থাকলেও চিকিৎসকসহ গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য পদের জনবল নেই। আর হাসপাতালটিতে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এ ছাড়াও হাসপাতালটিতে বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।
জনবলসংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়ে আসলেও কোনো সমাধান হচ্ছে না।

চিকিৎসা নিতে আসা সন্তানসম্ভবা শিউলি বেগম জানান, ডেলিভারি করানোর জন্য ডাক্তার নেই। এ ছাড়াও অপারেশন ও ডেলিভারি করানো হয় না। সে কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জেলা শহরে গিয়ে ডেলিভারি করাতে হয়েছে।

আমিনা বেগম বলেন, ‘যদি হাসপাতালে সরকারিভাবে অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে ডেলিভারি করানো ও মহিলা ডাক্তার থাকতো তাহলে আমার মতো গরিব মানুষদের জন্য ভালো হতো। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।’

শফিউল আলম বলেন, ‘৫টি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য একটিমাত্র হাসপাতাল। সেখানে বড় বড় ভবন থাকলেও ডাক্তার থাকে না। শহরে গেলে টাকা এবং সময় নষ্ট হয়, যাতায়াতেও কষ্ট হয়। ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকার মানুষ।’

আব্বাস মিয়া জানান, পা ভেঙে যাওয়ায় চিকিৎসা নিতে এসে হাসপাতালে এক্স-রে না থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মুখে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে অতিরিক্ত সময় ও অতিরিক্ত টাকা দিয়ে পরীক্ষা করেছি বাধ্য হয়ে।

বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামাল হোসেন বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালে গরিব অসহায় পরিবারের মানুষেরা যায়। তাদের জন্য স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাই।’

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার সুমন চন্দ্র বর্মন জানান, জনবলসংকটের কারণে চিকিৎসা নিতে আসা সব বয়সের মানুষের প্রাপ্য সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। যোগদানের পর থেকেই জনবলসংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানিয়েছি। তবে এখনো এর সুরাহা হয়নি।’