শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ‘ধ্বংস’ হয়েছে : নেতানিয়াহু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গতকাল শনিবার বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যৌথ সামরিক অভিযানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে ‘ধ্বংস’ করতে সফল হয়েছে।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন সময় এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে পাকিস্তানে মুখোমুখি দুই দফা বৈঠক করেছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

নেতানিয়াহু এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘আমরা পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস করতে সফল হয়েছি।’ তিনি আরও দাবি করেন, এই যুদ্ধ ইরানের নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক মিত্রদেরও দুর্বল করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এমন একটি অবস্থায় পৌঁছেছি, যেখানে ইরানের আর কোনো কার্যকর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা নেই।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধ শুরু করার মাধ্যমে ইরানকে পারমাণবিক বোমা অর্জন থেকে বিরত রেখেছে। এরপর চলমান সামরিক অভিযান শুরু হয় ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি।

নেতানিয়াহুর দাবি, সর্বশেষ যুদ্ধ শুরু হয় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে-যেখানে জানা যায়, নিহত ইরানি সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি ২০২৫ সালের জুনের যুদ্ধের পরও পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণের চেষ্টা করছিলেন।

নেতানিয়াহু বলেন, ‘ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন এবং পারমাণবিক উৎপাদনকে এমনভাবে পাহাড়ের গভীরে লুকানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। যেখানে এমনকি বি-২ বোমারু বিমানও পৌঁছাতে পারত না।’ নেতানিয়াহু বলেন, আমরা তা মেনে নিতে পারিনি। আমরা পদক্ষেপ নিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতার বড় অংশই এখন ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের এখনো কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও মজুত আছে, তবে তা ক্রমেই কমছে।’

নেতানিয়াহু মন্তব্য করেন, যুদ্ধে আমাদের ‘বড় অর্জন’ হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘এগুলো একটি দুর্বল হয়ে পড়া শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন, যারা এখন যুদ্ধবিরতির জন্যও আগ্রহী।’

তিনি আরও বলেন, ‘দশকের পর দশক ধরে ইরানের নেতৃত্ব এবং তাদের মিত্ররা ইসরাইলকে হুমকি দিয়ে এসেছে। তারা আমাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিল, আর এখন আমরা তাদের টিকে থাকার জন্য লড়তে বাধ্য করছি।’