আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইসলামাবাদের বৈঠক ব্যর্থ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির সুযোগ এখনও রয়েছে। তবে তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি তার ‘স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব’ পরিত্যাগ করে ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে, তাহলেই দু’দেশের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষর সম্ভব।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় পেজেশকিয়ান বলেন, ‘যদি মার্কিন সরকার তাদের স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব পরিত্যাগ করে ইরানের জনগণের জাতীয় অধিকারকে সম্মান করে- তাহলে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর পথ বের করা সম্ভব।‘
তিনি এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের জন্য শুভকামনা প্রকাশ করেন।
এর আগে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার সংলাপ কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ দুই যুগ ধরে দ্বন্দ্ব চলছে। এ ইস্যুতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিনব্যাপী সংলাপ অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চুক্তি হয়নি।
সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইরানে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে হামলা চালায়। যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়া ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হন।
পরবর্তীতে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তার ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে বৈঠকে বসে দুই দেশের প্রতিনিধি দল। তবে আলোচনায় কোনো সমঝোতা চুক্তি হয়নি।
পেজেশকিয়ানের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি স্বৈরতান্ত্রিক অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়, তবে সমঝোতার পথ উন্মুক্ত হতে পারে।