শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১৬ সফর, ১৪৪৮ হিজরি

ঢোল-বাদ্যে রঙিন বৈশাখী শোভাযাত্রার উৎসবধারা

বিশেষ প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা নববর্ষের বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা শুরু হয়েছে ঢোল-বাদ্যের তালে ও রঙিন মোটিফের বর্ণিল আয়োজনে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু হয়। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাস উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।

সকাল থেকেই চারুকলা অনুষদের প্রাঙ্গণে ভিড় জমে উৎসবপ্রিয় মানুষের। বর্ণিল পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়ে তারা ঢাক-ঢোল ও বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নববর্ষকে বরণ করে নেন। শোভাযাত্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী জাতীয় পতাকা বহন করেন, আর ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পী পরিবেশনায় যুক্ত হয়ে উৎসবের আবহকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলেন।

প্রতিবারের মতো এবারও লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে বড় পরিসরে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা-শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে সৃষ্টি করেছে অনন্য দৃশ্য। এবারের মূল বার্তা—অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।

শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ, দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হয়। শিক্ষার্থীরা বাঁশ ও বেত দিয়ে কাঠামো তৈরি করে রঙ-তুলির ছোঁয়ায় এসব মোটিফকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। লাল ঝুঁটির বিশাল মোরগ, কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা, বড় দোতারা ও টেপা আকৃতির ঘোড়া শোভাযাত্রার আকর্ষণ বাড়িয়েছে।

উৎসব ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র বহন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, ইংরেজি প্ল্যাকার্ড, বেলুন, ফেস্টুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রিও নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আর্চওয়ে স্থাপন করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে হেল্প ডেস্ক, কন্ট্রোল রুম ও অস্থায়ী মেডিকেল ক্যাম্প বসানো হয়েছে। দোয়েল চত্বর, কার্জন হলসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ পাবলিক টয়লেট স্থাপন করা হয়েছে।

নববর্ষ উপলক্ষে চারুকলা অনুষদে সাংস্কৃতিক আয়োজনও রাখা হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বকুলতলায় লোকসংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ শীর্ষক যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।