শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৫ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৯ শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও দেশে স্থিতিশীলতায় জামায়াতের ৯ দফা প্রস্তাবনা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সংকট এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ৯ দফা প্রস্তাবনা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগরী আমীর সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে এসব প্রস্তাব গৃহীত হয়। সম্মেলনে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতকরণ এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ জামায়াত নেতৃবৃন্দ।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় জনগণের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে দ্রুত সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ ঘোষণার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে জুলাই সনদের ধারাগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেওয়া হয়।

জ্বালানি সংকট দেশের অর্থনীতি, শিল্প ও কৃষিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে খাতটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের পাশাপাশি দেশীয় গ্যাস, কয়লা ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, বিদ্যুৎ খাত আধুনিকায়ন এবং কৃষিতে সার সংকট নিরসনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয় সম্মেলনে।

সম্মেলনে জামায়াত নেতৃবৃন্দদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় ও প্রশাসনিক কাঠামোতে দলীয়করণ সুশাসনের পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করে প্রশাসন, বিচার বিভাগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিরপেক্ষভাবে পরিচালনার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়া, চাঁদাবাজি-দখলবাজি ও সন্ত্রাস দমনে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কৃষক-উৎপাদকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ, স্থানীয় সরকারে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন এবং প্রশাসনে দলীয় প্রভাবমুক্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক খাত সংস্কার, অর্থ লোপাটকারীদের শাস্তি, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত পরিস্থিতিতে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও মানবিক সহায়তা জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন নেতৃবৃন্দরা।

এর আগে সকালে সম্মেলন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জামায়াত আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান দেশের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সরকারকে সকলকে সাথে নিয়ে সংকট মোকাবিলা করার আহ্বান জানান। একইসাথে জুলাই সনদ ও সকল অধ্যাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।