মুক্তাবাণী রিপোর্ট : রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে শিক্ষিকার সঙ্গে বিএনপির স্থানীয় এক নেতার হাতাহাতির ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুরে ঘটনাটির পরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এরপর শুরু হয়েছে সমালোচনা। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে নেপথ্যের কারণ।
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির কয়েকজন নেতা। তাদের ভেতর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী ও কৃষক দল নেতা জয়নাল আবেদিনও ছিলেন। তারা অধ্যক্ষের কক্ষে গিয়ে আলোচনা করছিলেন। এ সময় সেখানে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কলেজের শিক্ষক আলেয়া খাতুন হীরা উত্তেজিত হয়ে তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি থেকে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হীরা প্রথমে অফিসের বাইরে মাঠের ভেতর এক নেতাকে ধাক্কা মারেন। এতে তার লুঙ্গি খুলে যায়। পড়ে যান তিনি। পরে তেড়ে গিয়ে মাটিতে ফেলে তাকে আবারও মারেন হীরা। মূলত এখান থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়। এরপর অফিসে আলোচনা হয় বিএনপি নেতাদের সঙ্গে। তখন বিষয়টি সামনে আসে। এ সময় অফিসে উপস্থিত শিক্ষক হীরা আবারও উত্তেজিত হন। ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীর গালে সজোরে থাপ্পড় মারেন তিনি। কয়েক সেকেন্ড কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান আকবর। কিছুক্ষণ পর জুতা খুলে হীরাকে মারতে শুরু করেন। এ সময় হীরা পুনরায় তাকে মারতে উঠেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিস কক্ষে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষের সঙ্গে হীরার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সহকর্মীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে আসছেন তিনি। অধ্যক্ষের সঙ্গে সখ্য থাকায় তাকে কিছু বলা যায় না। উল্টো তিনি খারাপ আচরণ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, ‘আমি কাউকে অপমান করিনি। বিএনপির লোকজন চাঁদাবাজি করতে এসেছিল। অনুষ্ঠানের নাম করে টাকা নেবে। আমি নিষেধ করি। তাই তারা আমার ওপর হামলা করেছে। অধ্যক্ষকে রক্ষা করতে গিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে।’