বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৬ বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১১ জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ঢাকাকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি গড়তে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে রাজধানী ঢাকাকে ক্লিন অ্যান্ড গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতায় ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নানাবিধ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, নাগরিক সচেতনতা ও সম্পৃক্ততা বাড়াতে সাপ্তাহিক জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন জোরদার করা হয়েছে। সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে ল্যান্ডস্কেপিং ও সবুজায়ন সচেতনতামূলক গ্রাফিতির মাধ্যমে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এলাকার রোড মিডিয়ান, সড়ক দ্বীপ ও উন্মুক্ত স্থান সবুজায়নে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কোরিয়া ভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগে মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলকে ‘জিরো বর্জ্য’ কেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নগর বনায়ন (মিয়াওয়াকি ফরেস্ট) ও উন্মুক্ত মিডিয়ান সবুজে আচ্ছাদিত করা হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরে উত্তর সিটি এলাকায় পাঁচ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মেট্রোরেলের নিচের খালি অংশ (মিরপুর-১২ থেকে মিরপুর ডিওএইচএস) এবং এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচে (আব্দুল্লাহপুর থেকে ফার্মগেট) গাছ লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঢাকার দূষণ নিয়ন্ত্রণে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বায়ুদূষণের উৎস চিহ্নিত করা হয়েছে। কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন, নির্মাণ কার্যক্রম ও নির্মাণ সামগ্রীর বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সঙ্গে সমন্বয়ে আধুনিক বাস সার্ভিস ও ২৫০টি ইলেকট্রিক বাস চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকার চারপাশের অবৈধ দূষণকারী ইটভাটা বন্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট ও এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রম চলছে। সাভার উপজেলাকে ‘ডিগ্রেডেড এয়ারশেড’ ঘোষণা করে সেখানে ইটভাটা পরিচালনা ও খোলা জায়গায় বর্জ্য পোড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তরল বর্জ্য নির্গমনকারী প্রতিষ্ঠানে ইটিপি (এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ২৪৮টি প্রতিষ্ঠানে ইটিপি স্থাপন করা হয়েছে। বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু, তুরাগ নদী ও ঢাকার ১৯টি প্রধান খালের দূষণের উৎস ও প্রকৃতি নির্ণয় করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বন অধিদপ্তর দুই সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে যৌথভাবে রাস্তার মিডিয়ান, পুকুরপাড় ও খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করছে। এ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৬৫টি ফলজ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধনকারী বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকার খালি জায়গায় গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এসব কার্যক্রম ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা শহর গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন সংসদ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।