এইচ এম প্রফুল্ল, খাগড়াছড়ি : দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণার পর হতে হালদার শাখা, উপ-শাখা পরিবেশ বিরোধী সকল কাজ নিষিদ্ধের পর হালদার উজানে খাগড়াছড়ি অংশে শুরু হয়েছে খাল খনন কর্মসূচী| এতে স্থানীয় ৫ শতাধিক দরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে| ইতিমধ্যে দুই কিলোমিটার খনন কাজে লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া লাগানোতে নদীতে এসেছে গতি| খনন কাজ শেষ হলে নদীর দু’পাড়ে পরিবেশ বান্ধব ১২ প্রজাতির বৃক্ষ|
হালদা নদীর উৎপত্তিস্থল খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুক পাড়া এলাকার পাহাড়ে ঝিরি থেকে| এর পর এটি মানিকছড়ি উপজেলা এবং চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি, রাউজান, হাটহাজারি উপজেলা ও পাঁচলাইশ থানার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত হয়ে কর্ণফুলীর মোহনায় সংযুক্ত| মানিকছড়ি অংশে অন্তত ১০/১২ কিলোমিটার খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় চরম হুমকিতে পড়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদী|
২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর সরকার কর্ণফুলী নদীর সংযোগস্থল মোহনা পর্যন্ত প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের হালদা নদী ও এর তীরবর্তী এলাকাকে মৎস্য হেরিটেজ ঘোষণা ও হালদা নদীতে ১৬টি শর্ত কার্যকর করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার| এরপর হতে হালদার উজান ও শাখা-প্রশাখায় নজরদারিসহ খালের মরা অংশে পানির প্রবাহ সৃষ্টি করে মাছের অবাধ বিচরণ নিশ্চিতে নানামুখী উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি’র নির্বাচনী ইশতিহার বাস্তবায়নে খাল খনন কর্মসূচীতে হালদাকে অন্তর্ভুক্ত করে গত ২৭ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে খনন কাজ উদ্বোধন করা হয়| খাল খনন বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে ফিরবে প্রাণ|
সে থেকে শুরু হয় কর্মযজ্ঞ| এতে কর্মসংস্থানের সুযোগের পাশাপাশি নদীর গতি ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাওয়ায় খুশি খনন কাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকসহ স্থানীয়| খাল খনন প্রকল্প চালু করায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তারা|
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুর রহমান প্রাথমিকভাবে হালদার উজান সালদা অংশে মরা খাল পুনরুদ্ধারে অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানে প্রায় ৫শতাধিক শ্রমিক কাজ করছে| প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নদীর দু’পাড়ে পরিবেশ বান্ধব ১২ প্রজাতির গাছ লাগানোর কথাও জানান তিনি|
মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান,কাজের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এ খাল খনন প্রকল্পের ফলে হালদা নদী নবজীবন ফিরে পাবে| ৪৩ দিনে ৫ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শেষ করার টার্গেট থাকলেও কাজের গতি দেখে মনে হচ্ছে বরাদ্দকৃত অর্থে ও নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকেরা আরো বেশি পরিমাণ খাল খনন করতে সক্ষম হবেন|