নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘদিন পর দলকে সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী ও আগামী রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বলছে, কাউন্সিলকে ঘিরে ইতোমধ্যে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত শুরু হয়েছে তোড়জোড়। নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন, সাংগঠনিক পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ আন্দোলন-নির্বাচন কৌশল নির্ধারণে এবারের কাউন্সিলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে দলটি। সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সাংগঠনিক ইউনিটের সঙ্গে দিনব্যাপী মতবিনিময় সভা করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠন যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের সারা দেশের জেলা ও মহানগরের শীর্ষ দুই নেতা অংশ নেবেন।
এছাড়া বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও অঙ্গ সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত থাকবেন। এ সভা নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সারা দেশ থেকে নেতারা ঢাকায় আসা শুরু করেছেন।
জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, সাংগঠনিক তৎপরতার অংশ হিসাবে এই মতবিনিময় সভা। সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী সভা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিএনপির নেতারা জানান, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও দলের সাংগঠনিক সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে মতবিনিময় সভায় আলোচনা হবে। বিশেষ করে দল পুনর্গঠন ও দলের সপ্তম জাতীয় কাউন্সিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে সভায়।
এছাড়া সেখানে মন্ত্রণালয়ভিত্তিক বেশ কয়েকজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর কার্যক্রমের মূল্যায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো তুলে ধরা হতে পারে। যেন সর্বস্তরের জনসাধারণের কাছে সরকারের সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে পারেন সভায় উপস্থিত নেতারা।
এদিকে বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পরপর দলের জাতীয় কাউন্সিল হওয়ার কথা থাকলেও গত এক দশকেও তা হয়নি। তবে এ সময়ে দলের নির্বাহী কমিটিতে একাধিকবার পরিবর্তন আনা হয়েছে। যুক্ত হয়েছে নতুন মুখ। কেউ পদোন্নতি পেয়েছেন, আবার কাউকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠকগুলোতেও কাউন্সিল করার পক্ষে অভিমত দিয়েছেন একাধিক নেতা। কাউন্সিলের দিনক্ষণ ঘোষণার জন্য দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দায়িত্ব দিয়েছে স্থায়ী কমিটি। সেজন্য ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপির কাউন্সিলের বিষয়েও সভায় আলোচনা হতে পারে।
সম্প্রতি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষের দিকে বিশেষ করে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে দলের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে বিএনপি।
বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। এর মধ্যে বিরোধী দলের কর্মসূচির বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধী দল যে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, জনগণের মাঝে এ নিয়ে সঠিক তথ্য উপস্থাপনের জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সরকার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ একশর বেশি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু হয়েছে। সরকারের এসব পদক্ষেপ জনগণের মাঝে তুলে ধরতে কিছু কর্মসূচি পালনের বিষয়ে নেতাদের নির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।
সভা প্রসঙ্গে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন যুগান্তরকে বলেন, জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সভায় অংশ নেবেন। তবে সভার এজেন্ডা কি তা জানানো হয়নি।
এদিকে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, এই মতবিনিময় সভা যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির শেষ সভা হতে পারে। কারণ এই তিন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি শিগগিরই দেওয়ার কথা রয়েছে।